sliderস্থানিয়

ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগের বিরুদ্ধে জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধ: ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুজাহিদ বেগ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কিশোর গ্যাং ব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পেয়েছেন সাংবাদিকরা।

অভিযোগ রয়েছে, সমাজসেবার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চরভদ্রাসন ও চরসুলতানপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন মুজাহিদ বেগ ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে প্রথমে আস্থা অর্জন করা হলেও পরে সেই প্রভাব ব্যবহার করে অসহায় মানুষের জমি দখল করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মুজাহিদ বেগের বড় ভাই মহশিন বেগ ও আরেক ভাই ইলিয়াস বেগ পান্নুর নেতৃত্বে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্র স্থানীয় ও বহিরাগত কিছু যুবককে ব্যবহার করে জমির মালিকদের হুমকি দেওয়া, মারধর এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জমি দখল করে আসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চরভদ্রাসনের কয়েকটি ইউনিয়নের ১০–১৫টি পরিবার সাংবাদিকদের জানান, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন,“আমরা আমাদের ফসলি জমি ও বসতবাড়িতে পর্যন্ত ঠিকমতো যেতে পারি না। প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হতে হয়।”

অভিযোগে আরও বলা হয়, সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু স্থানীয় সন্ত্রাসীর সঙ্গে এই পরিবারের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে প্রশাসনের কাছেও ভুক্তভোগীরা প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে দাবি তাদের।

চরসুলতান ইউনিয়নের খালপার ডাঙ্গিতে অবস্থিত মুজাহিদ বেগের একটি গরুর খামার ঘিরেও রয়েছে নানা রহস্য। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর সেখানে বহিরাগত যুবকদের আনাগোনা বেড়ে যায়, যা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রিফাত হোসেন বলেন,“আমার জানামতে ওই খামারে বহিরাগত কেউ আসে না। নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণার জন্য লোকজন আসতে পারে।”

এদিকে, হামলার শিকার হয়ে নিহত শেখ ছৈয়দ্দিনের মেয়ে রাসেদা বেগম অভিযোগ করেন, তার বাবার বৈধ জমি ঈদগা নির্মাণের কথা বলে কিনে পরে তা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে গেলে প্রতিবাদ করায় তার বাবাকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান বলে পরিবারের দাবি।

একই ইউনিয়নের সায়েদ আলী সরদার (সাবু) নামের আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার ক্রয়কৃত বৈধ জমি জোরপূর্বক দখল নেওয়া হয়েছে এবং থানায় অভিযোগ দিয়েও উল্টো প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।

অন্যদিকে,এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মুজাহিদ বেগ বলেন, “আমি কারো জমি দখল করিনি। কেউ প্রমাণ দেখাতে পারলে আমি নির্বাচন থেকেই সরে দাঁড়াবো।”
তবে শেখ ছৈয়দ্দিনের জমি সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বিষয়টি তার বড় ভাইদের বলে এড়িয়ে যান।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি। লিখিত বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জোরপূর্বক জমি দখল একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে এলাকায় বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button