
পারিবারিক বাধার কারণে প্রেমিকাকে বিয়ে করতে পারছেন না। তাই তিনি নিলেন আত্মাহুতির সিদ্ধান্ত। তবে সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথও ভিন্ন। পাকিস্তানি এ যুবক চলে এলেন বৈরী ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে। তার ধারণা সীমান্তে এলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করবে। কিন্তু ঘটলো ভিন্ন ঘটনা।
পাকিস্তানের কাসুর জেলার জাল্লোকে গ্রামের বাসিন্দা মুহাম্মদ আসিফ। বিয়ে করতে চেয়েছিলেন ভাইয়ের শ্যালিকাকে। কিন্তু তার এ চাওয়া মেনে নেয়নি পরিবার। তাই চরম হতাশ হয়ে ভেবেছিলেন, এ জীবন রেখে আর কী হবে, তার চেয়ে বিএসএফের গুলি খেয়ে মরে যাওয়াই শ্রেয়। তাই ভারত সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তা হল না। সোমবার তাকে বিএসএফের ১১৮ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা মাব্বোকে ফাঁড়ির কাছে পাকড়াও করে মামডোত পুলিশের হাতে তুলে দেন। আসিফের ঠাঁই হয়েছে ভারতের জেলে।
৩২ বছর বয়সী আসিফ ভালবাসতেন বড় ভাই আতিক-উর-রহমানের শ্যালিকাকে। দুজনেই বিয়েতে রাজি হন। কিন্তু বাধা হয় দুজনের পরিবার। তারা ওদের সম্পর্কই মানতে রাজি হয়নি। এর মধ্যে ভাইয়ের শ্যালিকাকে জোর করে অন্যত্র বিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই ডিভোর্স হয় তার। আসিফ বলেন, এবার তো ওকে বিয়ে করতে পারি। কিন্তু ফের নাকচ হয়ে যায় আর্জি। প্রথমে আসিফ ঠিক করেন, গলায় দড়ি দেবেন। কিন্তু পবিত্র রমজান মাসে তা উচিত হবে না বলে মনে করে সেই ভাবনা ত্যাগ করেন। শেষে ঠিক করেন, ভারত সীমান্তে যাবেন, সেখানে বিএসএফ জওয়ানদের বুলেটে এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে গেলেই যন্ত্রণার অবসান হবে।
পাঞ্জাবের মামদোত থানার এসএইচও রশপাল সিংহ জানান, ধনী ঘরের ছেলে আসিফ প্রায় ২৫ একর জমির মালিক। সিনিয়র সেকেন্ডারি পরীক্ষায় পাশও করেছেন। ভারতীয় পাসপোর্ট আইন ও বিদেশি আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে তাকে।
সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস




