প্রস্তুত তুরাগ তীর : রাত পোহালে বিশ্ব ইজতেমা

রাজধানীর অদূরে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে আমবয়ানের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের ৪ দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা। ১৬০ একর বিস্তৃত বিশ্ব ইজতেমা ময়দান প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা অবস্থান নিয়েছেন তাবুর নিচে। বয়ান শুনছেন, আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করছেন। ময়দানে এসে মুসল্লিরা জেলা ভিত্তিক খিত্তায় অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়েরের ও দিল্লীর মাওলানা সা’দ অনুসারীরা আলাদাভাবে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবে। এবারের বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য আইন শৃংখলা বাহিনী, প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সম্পন্ন করা হয়েছে সব প্রস্তুতি।
বিশ্ব ইজতেমা দিল্লী মারকাজের শীর্ষ মুরুব্বী সা’দ ও বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়েরের অনুসারিরা বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় এবার এক পর্বে চারদিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দুদিন মাওলানা জুবায়ের ও পরের দুদিন মাওলানা সা’দপন্থী সয়ৈদ ওয়াসিফ ইসলামের ব্যবস্থাপনায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার ও সোমবার দুদিন আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
এরই মধ্যে ইজতেমার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে মুসল্লিদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতকরণ, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে টঙ্গী, বিমানবন্দর, তেজগাঁও ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি অফিসারসহ প্রয়োজনীয়সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার শুরু হবে তাবলিগ জামাত আয়োজিত মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি ইতোমধ্যে ময়দানে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় এক সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন দেশের ৬৪ জেলার মুসল্লি। দুই গ্রুপের আলাদা আয়োজনে শুক্রবার শুরু হয়ে ১৮ ফেব্রেুয়ারি শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে শনিবার ও সোমবার।
বিশ্ব ইজতেমার মাঠ তৈরিসহ নানা ভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো: জাহাঙ্গীর আলম বলনে, সব বিভাগের সমন্বয়ে বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলনে, বিশ্ব ইজতেমায় সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করতে আইন শৃংখলা বাহিনির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র্যাবের ৯টি ও পুলিশের ১৫ টি পর্যবেক্খন টাওয়ার নির্মান করা হয়েছে।পর্যাপ্ত সিসি টিভির মাধ্যমে বিশ্ব ইজতেমা ময়দান এলাকার নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করা হয়েছে।




