প্রস্তাবিত বাজেটে রফতানিমুখি শিল্প স্থবির হয়ে পড়বে-ইএবি

প্রস্তাবিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে রফতানিমুখি শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে বলে মনে করে রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)। শনিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, বাজেটে শিল্পকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিল্পের বিকাশের পথে নিরুৎসাহিতকরণের কিছু পদক্ষেপও রয়েছে। সংগঠনের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী স্বাক্ষরিত এ বিবৃতিকে বলা হয়, বিস্ময়ের ব্যাপার হলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে রফতানিখাতের উৎস কর শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক দশমিক ৫০ শতাংশ করায় রফতানিমুখি শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে, শিল্পের সক্ষমতা কমে যাবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে, বিনিয়োগ তথা কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিশ্চিতভাবে নিরুৎসাহিত হয়ে উঠবে। এতে বলা হয়, বাজেটে রফতানিখাতে বিশেষ মুদ্রানীতি সর্ম্পকে কোনো নির্দেশনা নেই। তৈরি পোশাক খাতের কর্পোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।
তৈরি পোশাক রফতানিখাতের যৌক্তিক দাবি ছিল পূর্বের ন্যায় ১০ শতাংশ, যা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানে আরো সক্ষমতা বৃদ্ধি পেতো। শিল্পের স্বার্থে কর্পোরেট কর ১০শতাংশ করার অনুরোধ করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎসাহিতকরণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো দিক নির্দেশনা পরিলক্ষিত হয়নি। ইএবির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে একদিকে সম্ভাবনা যেমন আছে, বিপরীতে আছে বিরাজমান কঠিন বাস্তবতা। এবারের বাজেটে শিল্পকে উৎসাহিত করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে রফতানিখাতের প্রণোদনা বাবদ ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির রেয়াতি হারে শুল্কায়ন সুবিধা বহাল রাখা, অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্রপাতি-উপকরণ ও প্রি-ফেব্রিক্যাটেড বিল্ডিং তৈরির উপকরণে শুল্ক রেয়াতের প্রস্তাব করা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা, তৈরি পোশাক খাতের কর্পোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা এবং বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের পেনশন প্রদানের উদ্যেগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং সার্বিক যোগাযোগ অবগকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা খাতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে এবং ১০টি মেগা প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য তহবিল বরাদ্দ শিল্পে সহায়ক হবে।
ইএবি সভাপতি বলেন, বাজেটে রপ্তানীখাতে বিশেষ মুদ্রানীতি সর্ম্পকে কোনো নির্দেশনা নেই, এ ব্যাপারে রফতানিকারকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিশেষ মুদ্রানীতি এবং বিষয়টি অর্থমন্ত্রীর সুবিবেচনার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।
এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎসাহিতকরণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন দিক নির্দেশনা পরিলক্ষিত হয়নি। বিষয়টি পূণ:বিবেচনার জোরালো দাবি জানাচ্ছি।




