অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

প্রস্তাবিত বাজেটে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে-বিজিএমইএ

 

সক্ষমতা হারিয়ে গত তিন বছরে ৬১৮টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ৩১৯টি বন্ধের পথে রয়েছে উল্লেখ করে তৈরিপোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করা হলে আরো অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।

লাভের ওপর নয়, বিক্রির ওপর উৎসে আয়কর আরোপ করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এক দশমিক পাঁচ শতাংশ উৎসে কর বিদ্যমান রাখা হলে যে কারখানাটি শ্রমিকদের মজুরি দেয়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধ করা, পরিবহনখাতে ব্যয় করাসহ বিভিন্নখাতে ব্যয় করার পর তিন শতাংশ মুনাফা করে তার ৫০ ভাগই সরকারকে দিয়ে দিতে হবে।

শুক্রবার প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলে বিজিএমইএ সভাপতি। রফতানিখাতের প্রনোদনা বাবদ সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির রেয়াতি হারে শুল্কায়ন সুবিধা বহাল রাখা, অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্রপাতি/উপকরণ ও প্রি-ফ্যাব্রিক্যাটেড বিল্ডিং তৈরির উপকরণে শুল্ক রেয়াতের প্রস্তাব করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে বরাদ্দ রাখাকে বাজেটের ইতিবাচক দিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিজিএমইএর ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। পোশাক শিল্পের জন্য উৎসে আয়কর পূর্বের ন্যায় দশমিক তিন শতাংশ বহাল রাখার দাবি জানান তারা।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিল্পের পরিপন্থি কিছু পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে দাবি করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সবধরনের রফতানির ক্ষেত্রে উৎসে কর্তিত করের হার ০.৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যক্ষ কর ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে যা শিল্পের বিকাশের সাথে সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি বিশেষ করে পোশাক শিল্পে বহাল রাখা হলে শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিতভাবেই ব্যাহত হবে। অন্যদিকে ১.৫০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হলে তা নতুন বছরে অর্থনীতির সাত দশমিক দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ও সরকারের শ্রমঘন শিল্পায়ন কৌশলের সাথে সাংঘর্ষিক হবে। কারণ দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রায় ২৫ ভাগ আসে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত থেকে, আর সেই খাতের সবচেয়ে বড় শিল্পের ওপর এরূপ করের বোঝা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশের তৈরিপোশাক শিল্প বর্তমানে একটি সঙ্কটময় পরিস্থিতির মুখোমুখী রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে প্রতিবছর আমাদের উৎপাদন খরচ বাড়ছে আট থেকে ১০ শতাংশ হারে। আবার প্রতিযোগি দেশগুলোর তুলনায় আমাদের মূদ্রা শক্তিশালী হওয়া আমাদের অবস্থাকে আরও সঙ্গীন করে তুলেছে।

বিগত চার বছরে ডলারের বিপরীতে টাকা সাত দশমিক ৬৬ শতাংশ হারে শক্তিশালী হয়েছে। আমাদের শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতাও প্রতিযোগি দেশগুলোর তুলনায় কম। অন্যদিকে এ্যাকর্ড, এ্যালায়েন্স ও ন্যাশনাল একশন প্লানের মাধ্যমে কারখানাগুলোকে যে রিমেডিয়েশন প্লান দেয়া হচ্ছে, তা বাস্তবায়ন করতে একটি ক্ষুদ্র-মাঝারী শ্রেণির কারখানাকে গড়ে পাঁচ থেকে ১০ কোটি টাকা খরচ করতে হয়।

এই পরিস্থিতিতে এক দশমিক ৫০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হলে শিল্পের বিরাজমান সঙ্কট আরো তীব্রতর হবে। প্রতিযোগি সক্ষমতা কোনভাবেই ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

উৎসে কর এক দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কর্তন করার সিদ্ধান্ত রফতানীমূখী শিল্প ও বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করবে জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এমনিতেই বেসরকারিখাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা রয়েছে ব্যাংকগুলো অলস তহবিল নিয়ে বসে আছে, শিল্প স্থাপনের জন্য কেউ ঋন নিচ্ছেন না। আর আমরাও যেখানে বিরাজমান শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। অথচ ২০২১ সাল নাগাদ ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে হলে শিল্পে প্রতি বছর প্রবৃদ্ধি হতে হবে ১২ শতাংশ হারে। আর এর জন্য উদ্যোক্তাদের হাতে যথেষ্ট অর্থ থাকতে হবে যা তারা শিল্পে পূনর্বিনিয়োগ করবেন। আর এই প্রয়োজনীয় অর্থ আহরন হবে শিল্প থেকেই।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিল্প যদি লোকসান দিয়ে চালাতে হয়, তবে পূনর্বিনিয়োগ তো দূরের কথা, সেই শিল্প পরিচালনারই যৌক্তিকতা কতটুকু? বলেন, সব পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা যে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবেন, এ শিল্পের ধারা অব্যাহত থাকবে, এরকম ভাবার অথবা আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

সুত্র: নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button