sliderস্থানিয়

প্রবাসে যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়ে “প্যাসেন্জার” নিজেই বাড়ি ছাড়া

‎মির্জাপুর প্রতিনিধি : প্রবাসে যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়ে এক প্যাসেন্জার নিজেই ঘর-বাড়ি রেখে পলাতক আছে, পরিবারের মানুষ রয়েছে গৃহবন্দী।

‎এমনই এক ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বড় গবরা এলাকায়। ভুক্তভোগী ওই এলাকার তমিজ উদ্দিনের ছেলে মন্জু মিয়া (৪৫)।

‎এই ঘটনায় মন্জু মিয়া বাদি হয়ে টাঙ্গাইল কোর্টে ১১ জন সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

‎আসামিরা হলেন ঐ এলাকার লাল চান,গনি মিয়া,মানিক মিয়া,মো.শফিক,আরজু সরকার,মো. মুন্না মিয়া, সোহেল, সজিব,ফজলু,এমারত হোসেন,কাসেম।

‎ওই ভুক্তভোগী মন্জু মিয়া জানান,বছর খানেক আগে আমার এলাকার দুইজন মানুষ বিদেশ যাওয়ার জন্য ধামরাই উপজেলার খাগুটিয়া এলাকার আলী নামের এক আদম ব্যবসায়ীর নিকট টাকা ও পাসপোর্ট জমা দেন। পরে তাদের দেখে আমিও জমা দেই। এরপর আমার এলাকা থেকে আরোও ৭-৮ জন ঐ আদমের নিকট টাকা ও পাসপোর্ট জমা দেন। জমা দেয়ার কিছুদিন পর শুনি ঐ আদম পালিয়ে গেছে। তাকে ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করে না।পরে আমার এলাকার মানুষ তাদের জমাকৃত সব টাকা আমাকে দিতে বলে। এ নিয়ে এক পর্যায়ে আমাকে হুমকি দিলে আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে এলাকার মাতাব্বররা আমার পরিবারকে চাপ দিলে আমি বাড়িতে আসি। আমাকে নিয়ে বিচার বসে। আমি তাদের হুমকি ও চাপের কারনে মাতাব্বরদের ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা দেই।মাতাব্বররা আরোও বেশি টাকা চাইলে আমি অস্বীকার করি।পরে আমি মাতাব্বরদের চাপে আবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। অতঃপর এলাকার মাতাব্বর ও অন্যান্য প্যাসেন্জার মিলে আমার বাড়ি থেকে ৩টি গরু,২টি মোবাইল, মটার, ধান লোটপাট করে এবং আমার পরিবারকে তারা গৃহবন্দী করে রেখেছে। আমি এখনোও পলাতক আছি তাদের ভয়ে।তারা আমাকে বাড়িতে গেলেই মেরে ফেলবে বলেও জানান।আমি এই জুলুম অত্যাচারের বিচার চাই।

‎অন্যদিকে এলাকার মাতাব্বর আরজু,লাল মিয়া,ফজল ও অন্যান্য প্যাসেন্জাররা মন্জু মিয়ার এসব অভিযোগকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বলেন,আমাদের নিকট থেকে মন্জু মিয়া সরাসরি ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে।এখন সে বিদেশেও পাঠাতে পারছেনা, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। তাই আমরা সবাই মিলে তাকে টাকা ফেরতের কথা বলেছি। কিন্তু তার বাড়িতে থেকে আমরা সবাই মিলে ২টি মোবাইল নিয়েছি, ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা জরিমানা স্বরুপ নিয়েছি। কিন্তু আমরা তাকে গৃহবন্দী করে রাখি নাই,আবার মন্জুকে এলাকা ছেড়েও যেতে বলি নাই।

‎মন্জুর স্ত্রী জায়েদা বলেন,এলাকার মাতাব্বররা আমাদের বাহিরেও যেতে দেই না। বাজার করতে দেই না।সবসময় তারা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে।যেহেতু আমরা মামলা করেছি,আমরা আইনের আশ্রয় চাই।আমাদের সহযোগিতা করুন।

‎আদম ব্যবসায়ী আলী বলেন,মন্জু আমার কাছে কিছু টাকা দিছে,আবার সরাসরি অফিসেও টাকা দিছে। আর যে পাসপোর্টগুলো জমা দিছে সেগুলোর ভিসাও হয়েছে। এখন ভিসা বাতিল হলে হয়তো অফিস থেকে টাকা ফেরত দিবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button