প্রবল বর্ষণে বান্দরবানের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

টানা চার দিনের প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া, দৌরিয়ারহাট ও আমতলী এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় আজ বুধবার সকাল থেকে বান্দরবান জেলা সদর সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগও। বান্দরবান জেলা সদরের অদুরে পাইনছড়া খালের উপরে থাকা বেইলি সেতু প্রায় ২০ ফুট বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলা সদরের সাথে রুমা উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে আজ সকাল থেকে। খুমিঘাট এলাকায় পাহাড়ের অংশ ধসে পড়ে এ সড়কপথ বন্ধ হয়ে যায়।
জেলা শহরের অদুরে কালাঘাটা-রোয়াংছড়ি সীমানায় বানের পানিতে সেতু তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রোয়াংছড়ি উপজেলার সাথেও।
প্রবল বর্ষণজনিত পাহাড়ি ঢলে জেলার সাংগু, মাতামহুরী এবং বাঁকখালী নদীতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই পানির প্রবাহ বিপদসীমার ১০ থেকে ১২ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ও প্রবল বর্ষণ অব্যাহত থাকায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। কাল পবিত্র ইদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে পড়েছে।
জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, চালসহ পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।
মাঝারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। জেলায় ব্যাপক এলাকা বন্যায় তলিয়ে গেছে। গত সোমবার ভোররাতেই তালিয়ে গেছে জেলা শহর এবং লামা উপজেলা সদরের নিচু এলাকার শত শত ঘরবাড়ি। বান্দরবান শহর এবং লামা উপজেলা সদরে ১২টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে প্রশাসন ও পৌরকর্তৃপক্ষ।
এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ পরিবার আশ্রয় গ্রহণ করেছে। তাদের মাঝে খিচুুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ থেকে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
জেলা শহরের ১২টি এলাকা এবং লামা উপজেলা সদরের ৮টি এলাকাসহ নিচু এলাকাসমুহ বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশংকা করা হচ্ছে। প্রবল বর্ষণজনিত কারণে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ মসজিদসমূহে অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।
নয়া দিগন্ত




