প্রধান বিচারপতি দেশে থাকতে এসব অভিযোগ তোলা হয়নি কেন : রিজভী
প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাওয়ার পূর্বমুহূর্তে যে বিবৃতি জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, সেই অস্থিরতা থেকেই সরকার এখন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এত অভিযোগের ‘নাটক’ সাজাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তো মনে হচ্ছে অনেক পুরোনো। তাহলে প্রধান বিচারপতি দেশে থাকতে এসব অভিযোগ তোলা হয়নি কেন?
রিজভীর অভিযোগ, প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের নিয়ে বৈঠক করে রাষ্ট্রপতিও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতির বিদেশ যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ উত্থাপন সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনটিকে এভাবে কালিমালিপ্ত করার ঘটনা ইতিহাসে আর কখনো ঘটেনি।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এত অভিযোগ পেয়েই থাকেন, তাহলে তিনি সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করলেন না কেন—এ প্রশ্ন এখন আইন অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালতের সর্বসম্মত রায়ের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল হওয়ার কথা।
রিজভী বলেন, নিয়মানুযায়ী প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে অভিযোগগুলো রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের জুডিশিয়াল বিভাগে তদন্তের জন্য পাঠাবেন। তদন্তের শেষে যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে বিচারপতিকে অপসারণ করবেন। আর যদি প্রমাণিত না হয়, তাহলে তিনি পদে বহাল থাকবেন।
কিন্তু রাষ্ট্রপতি এ ধরনের ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি কেন আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের নিয়ে বৈঠক করে অভিযোগ শোনালেন, তা এখন আর মানুষের বুঝতে বাকি নেই। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তো মনে হচ্ছে অনেক পুরোনো। তাহলে প্রধান বিচারপতি দেশে থাকতে এসব অভিযোগ তোলা হয়নি কেন?
সরকারপ্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধাচরণ করছেন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাওয়ার পূর্বমুহূর্তে যে বিবৃতি জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, সেই অস্থিরতা থেকেই সরকার এখন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এত অভিযোগের নাটক সাজাচ্ছে। আবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটিও ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার, বিএনপির সহসাংগঠনিক আবদুস সালাম প্রমুখ।




