পোল্যান্ডে হামলা হলে রাশিয়ায় পাল্টা হামলা : ন্যাটো

রাশিয়া যদি পোল্যান্ডে হামলা করে তাহলে ন্যাটো সরাসরি রাশিয়ার ওপর হামলা চালাতে বাধ্য হবে। সোমবার সংগঠনটির মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ এ কথা বলেছেন। এছাড়াও রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় পশ্চিমা সেনা জোটকে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ন্যাটো।
আলবেনিয়ায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর সংসদীয় বৈঠক থেকে সোমবার এ ঘোষণা আসে। এই বৈঠকে ২৮টি সদস্য রাষ্ট্রের ২৫০ জন আইনপ্রণেতা উপস্থিত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে এএফপি।
পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনের প্রস্তুতি উপলক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে রাশিয়ার ওপর তোপ দাগেন সবাই।
ন্যাটো মহাসচিব জিন্স স্টলটেনবার্গ বলেন, সদস্যভুক্ত যে কোনো রাষ্ট্রের উপর রাশিয়ার আক্রমণকে ন্যাটোর উপরে আক্রমণ বলেই বিবেচনা করা হবে।
সম্প্রতি রোমানিয়া ও পোল্যান্ডে মার্কিন ক্ষেপনাস্ত্র স্থাপনের পরিকল্পনার বিপরীতে পোল্যান্ড আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পূর্ব ইউরোপে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুতিন বলেন, নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনে মার্কিন মিত্রদের আক্রমণ করতেও পিছপা হবে না রাশিয়ান বাহিনী। এ কথার জবাবেই একাট্টা হয়েছে ন্যাটো রাষ্ট্রগুলো। ন্যাটোর প্রতি রাশিয়ার চ্যালেঞ্জকে ভয়ংকর বলে অভিহিত করেছে তারা।
এদিকে আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনে পূর্ব ইউরোপীয় জোনে সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারে প্রস্তাব তোলার ব্যাপারেও একাত্মতা প্রকাশ করেছে দেশগুলো। এদিকে পূর্ব ইউরোপীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের কারণ হিসেবে রাশিয়াকে নয় বরং ইরানের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। তবে তা কানে তুলছে না রাশিয়া।
একদিকে আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনের আগে রাশিয়ার সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে আলোচনার ইচ্ছা রয়েছে বলেই দাবি করেছেন ন্যাটোর নেতারা।
অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন তারা। ইউক্রেন থেকে রাশিয়ার ক্রিমিয়া অধিকারের পর থেকেই দেশটির সঙ্গে ন্যাটো-মার্কিন জোটের উত্তপ্ত সম্পর্ক। তবে এর আগেও ন্যাটোর অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েনকে কেন্দ্র করে পূর্ব ইউরোপী সীমান্তে রাশিয়াও সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করেছিল।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বাজেট দ্বিগুণ করেছে রাশিয়া : দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ১৬ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘোষণা করেছে রাশিয়া।
২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে শুধু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে এ অর্থ বিশেষ বিশেষ কিছু খাতে ব্যয় করা হবে।
সোমবার রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদ এই বরাদ্দকে অনুমোদন দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে জিনহুয়া নিউজ। এ সময় রাশিয়াকে বিশ্বের দ্বিতীয় অস্ত্র আমদানিকারক রাষ্ট্রের অবস্থান ধরে রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগজিন বলেন ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে। অবকাঠামো, গবেষণা, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।




