উপমহাদেশশিরোনাম

‘পেঁয়াজ এখন কৌতুহলোদ্দীপক রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্যাঁচাল’

 ফারজানা ইসলাম লিনু

স্মরণকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে পাহাড় স্পর্শী পেঁয়াজের দাম এখন আকাশমুখী। শুরুতে গুজব ভেবে পাত্তা না দেওয়াতে এই গজবের মুখোমুখি আজ বাংলার অবলা নারীকুল।

সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থেকে দুর্দান্ত সব ইতিহাস সৃষ্টি করছে পেঁয়াজ।

স্বল্প পেঁয়াজ ও নাইপেঁয়াজের রান্নায় মাছ, মাংস, নিরামিষ তরকারি পাতিলে বাটিতে কেমন ভেটকাইয়া থাকে। দেখেও না দেখার ভান করি। কিন্তু আছিয়ার যন্ত্রণায় দুদন্ড শান্তিতে কাটানোর ফুসরত নেই, চোখের সামনে আমারে দেখলেই হয়েছে, মামি পেঁয়াজ লাগবো। হৃদকম্পন নিয়ন্ত্রণে রাখতে আছিয়া থেকে নিজেরে যতটা পারি আড়ালে রাখি।

পেঁয়াজ এখন কৌতুহলোদ্দিপক রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্যাঁচাল। দুনিয়ার সব কাজ রেখে অষ্টপ্রহর আমাদের পেঁয়াজ বন্দনা। কেমনে পেঁয়াজের খরচ কমানো যায়, কেমনে সস্তায় পেঁয়াজ কেনা যায় ব্লা, ব্লা,ব্লা।

একদিন শুনলাম পঁয়তাল্লিশ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে লম্বা সারিতে দাঁড়িয়েছে মানুষজন। শুকনা খাবার,ছাতা, পানি, অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে আমিও তৈরি। কিন্তু তৎক্ষনাৎ ফেসবুকের সৌজন্যে ভার্চুয়্যালি খবর পেলাম রিকাবি বাজার থেকে পেঁয়াজ ক্রয়ের বর্ধিত লাইন কুমার পাড়ার পথে। ঘর থেকেই যখন লাইনে দাঁড়ানো যাবে, তখন আর ত্রিশটাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে কাজ নেই।

অপরাহ্ন বেলায় ভাতঘুম থেকে উঠে শুনি পেঁয়াজের লাইন কুমারপাড়ায় আসার আগেই মজুদ শেষ। সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে আপাদমস্তক নোনা ঘামে ভিজে যারা পেঁয়াজ পায়নি, তাদের তুলনায় আমার শ্রম অতি তুচ্ছ। মনে কষ্ট নেওয়ার কোন মানে হয়না।

পেঁয়াজের গাড়ি মিস করে টিভির রিমোট হাতে সারা বিকেল কেকাপ্পারে বিছরাই। বলা যায় না বেচারি মুরগির ভুড়িতে নোডলস চাইপ্যা পেঁয়াজবিহীন কোন রেসিপি নিয়ে যদি হাজির হয়।

নাহ অরণ্যে রোদন, কেকাপ্পাও স্বেচ্ছা গুমে।

অনির্দিষ্ট কালের জন্য পেঁয়াজবিহিন রান্নার ঘোষণা দিয়ে আমাকেও যেতে হবে অন্তরালে।

সেই মুহুর্তেই অনলাইন নিউজে চোখ খানিক আটকায়।উর্ধ্বমুখী দামের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ গৃহিনীরা আজকে সিলেটের শহীদ মিনারের সম্মুখে মানব বন্ধন করেছেন। খবরটা দেরিতে পাওয়াতে তাদের সাথে শরিক হতে পারিনি। আফসোস, এতজন মহিলারে আবার একত্রিত করা চাট্টিখানি কথা না।

আজই একটা মোক্ষম সুযোগ গেলো পেঁয়াজ প্রেমী বঙ্গ ললনাদের উস্কে দেওয়ার, বোনেরা আমার, খালারা আমার, পরাধীন ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য প্রীতিলতা যদি চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুন্ঠন করতে পারেন আমরা কেন পেঁয়াজাগার লুন্ঠন করতে পারবো না?

এখনো সময় আছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। চলেন সবাই লং মার্চ করে পেঁয়াজাগারের দিকে অগ্রসর হই। যেখানেই বাঁধা সেখানেই প্রতিরোধ।

পরিবারের কর্তারা বর্ধিত দামের কারণে সংসার খরচে বরাদ্দ বাড়াবে না, সরকার দাম কমাতে উদ্যেগ নিবেনা, দুষ্টু কারবারি ও ফড়িয়া দাম বাড়াতে পেঁয়াজ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করবে, আর আমরা বসে থাকবো?

আজ এটুকুই, আপনাদের সমর্থন পেলে আন্দোলনের পরবর্তী দিক নির্দেশনা দেয়া হবে শীঘ্রই।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button