বিবিধশিরোনাম

পুরুষরাই নারীদের ওপর বেশি নির্ভরশীল : ফিলিস্তিনী নারী পরিষদ

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে নারী ক্ষমতায়নের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে যাচ্ছে। একদল ফিলিস্তিনী নারী একটি পরিষদ গঠন করেছেন। ফিলিস্তিনের প্রান্তিক অঞ্চল বেথেলহামের নিকটের গ্রামের নারীদের এই সংগঠিত চেতনা ব্যতিক্রমী আকর্ষণ তৈরি করেছে।
অনেক নারীরা সন্তানকে স্কুলে দিয়ে আসা এবং নিয়ে আসার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেন। জুব্বেত আল দীব একটি ছোট গ্রাম। যেখানে বিদ্যুৎ ছিল না, বাচ্চাদেরকে প্রায় এক ঘন্টা হেঁটে স্কুলে যেতে হতো, তিন কিলোমিটার হেটে প্রয়োজনীয় কেনা-কাটার জন্য যেতে হতো। ফলে ২০১৫ সাল থেকে ২২টি পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
এখনো গ্রামটিতে অবস্থার উন্নতি হয়নি। ২০১৭ সালের অক্টোবরের ৮ তারিখে গ্রামের নারী পরিষদ একটি ক্লিনিক স্থাপন করে। গ্রামের কর্মজীবী পুরুষরা দিনে কন্সট্রাকশন শিল্পে কাজের জন্য ইসরাইলে যায়, ফলে গ্রামটি দিনে কর্মঠ-প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ শূণ্য থাকে।
ফাদিয়া, ইতিদাল ও ফাতিমা তাদেরকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। নারীরাও উন্নযনে ভূমিকা রাখবে এমন চিন্তা শুরু করে। সংগঠন করা বা ঘরের বাইরে কাজ করা অনেক পুরুষেরই আত্মমর্যাাদায় আঘাত করবে বলে মনে করেন উইমেন্স কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ফাদিয়া আল-ওয়াহশ। ফিাদিয়া একজন গৃহকর্ত্রী ও ৬ সন্তানের জননী।
২০১৫ সালের অক্টোবরে নারী সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যা নারীর ক্ষমতায়নে ভিন্ন মাত্রা তৈরি করে, সমাজে প্রভাব ফেলতে থাকে এবং শহরের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করতে থাকে। ফাদিয়া বলেন, আমরা চাই সংগঠনটি হবে শুধুমাত্র নারীদের এবং এর নেতৃত্বে থাকবে নারীরাই। কারণ পুরুষরা জানে না নারীরা কীভাবে কষ্ট করে। তারা সকালে ঘর থেকে বের হয় এবং রাতে ঘরে ফিরে।কিন্তু নারীরা অনেক বাধা বিপত্তি মোকাবেলা করে।
সংগঠনটির শুরুতে মানুষ উদ্যোক্তা-সংগঠক নারদের প্রশ্ন করতো তোমাদের স্বামীরা কোথায়? এখন এই উইমেন্স কাউন্সিল স্কুল নির্মাণ করেছে, যেখানে ২০ মিনিটের কম সময়ের মধ্যেই গ্রামের শিক্ষার্থীরা স্কুলে পৌছতে পারে। তবে তারা অনেক সময়ই সূর্যের প্রখর তাপ, বৃষ্টি এবং ইসরাইলের সৈনিকদের দ্বারা কষ্ট পায়।
ফাতিমা বলেন, ‘আমরা আমাদের ধর্ম, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যাই না। নারী হিসেবে আমাদের যে অধিকার আছে তা প্রতিষ্ঠার জন্যেই কাজ করে যাচ্ছি মাত্র। আমরা জানি কোনোভাবেই আমরা আইন লংঘন করছি না, আমরা ভুল কিছু করছি না।’
ফাদিয়া জানায়, তার স্বামী তাকে বলেছিল ‘যদি তুমি কোনো প্রয়োজন মনে কর কিংবা করতে চাও, তবে প্রথমে আমার কাছ থেকে অনুমতি নিবে।এখন গ্রামের জনগণ আমাদেরকে সহায়তা করছে। তারা এখন শুধুমাত্র আমাদের জন্য গর্বিতই নয়, তারা আমাদের ওপর নির্ভরশীল।অবশ্য আগে অনেকেই আমাদেরকে খারাপ বলেছে।’
ফাতিমা বলেন, আমরা তাদের কাছে প্রমাণ করতে চাই যে তারা যা করে আমরা তা করতে পারি। নারী পুরুষ উভয়ের ভূমিকা সমাজে সমান।’
ইতিদাল বলেন, ‘এখন আমাদের কাজ শুধুমাত্র শিশুদের জন্য নয়, পুরুষের জন্য নয় কিংবা কমিউনিটির জন্য নয়; এটা নারীদের জন্য, আমাদের জন্য।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button