slider

পীরের বাজারে প্রতিরাতে সাংবাদিক পরিচয়ে চলে অবৈধ বুঙ্গার চিনির গাড়ি লুটপাটের ধান্দা

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট তামাবিল মহাসড়কের পীরের বাজারে আতিক সেন্টারের সামনে প্রতিরাতে সাংবাদিক পরিচয়ে চলে ভারত থেকে আসা অবৈধ বুঙ্গার চিনির গাড়ি লুটপাটের ধান্দা।

এসব সাংবাদিকরা তামাবিল সড়কে চলাচলকারি প্রত্যেকটি ট্রাক আটকিয়ে তল্লাশী করেন। তল্লাশী করার সময় ট্রাকে চিনি বা ভারতীয় অন্য কোন পণ্য পেলে তা সাথে সাথে লুটপাট হয়ে যায়। তবে পরিচিত হলে পাওয়া যায় “ডিসকাউন্ট”। পরিচিত কেউ হলে লুটপাট থেকে রেহাই পেলেও দিতে হয় চাঁদা।

স্হানীয় কয়েকজনের সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চোরাকারবারিদের জিম্মি করে চলে লুটপাট ও চাদাবাজি, চাঁদা না দিলে বা লুটপাটে বাধা দিলে করা হয় নির্যাতন নতুবা ধরিয়ে দেয়া হয় পুলিশের কাছে। তাদের এসব কাজে কেউ বাধা দিলে মিথ্যা সংবাদের হুমকি দেয়া হয় এমনকি রজনৈতিক নেতারাও মিথ্যা মামলার ভয় দেখান।

অপর একটি সুত্র থেকে জানা যায়, তামাবিল সড়ক হয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০টি ট্রাক ভারতীয় বুঙ্গার চিনি নিয়ে সিলেট শহরে ঢুকে। এর মধ্যে কিছু ট্রাক খাদিম বাইপাস হয়ে মোগলাবাজার, গোালপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, মৌলভীবাজার যায়। বাকি ট্রাক সিলেট নগরী ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্হানে যায়।

পিরেরবাজারে প্রায় ৮/১০ জনের একটা গ্রুপ রয়েছে ভারত থেকে আসা অবৈধ চিনির স্বাদ নেয়ার জন্য। এরা রাত হলেই বেরিয়ে পড়ে জাতির বিবেক ও কলম সৈনিক পরিচয় দিয়ে দেশ ও জাতির সাথে বেঈমানি করতে।

বেশীর ভাগ সময় এদেরকে দেখা যায় গলায় কার্ড ও হাতে বুম নিয়ে ঘুরতে। মুলত এরা কোন পত্রিকায় কাজ করে তার কোন হদিস পাওয়া যায়নি। তবে তাদেরকে অনেকই “নিশাচর” সাংবাদিক বলে ডাকেন!!

স্হানীয় সুত্রে পাওয়া খবরে আরও জানা যায়, জনৈক কয়েকজন তথাকথিত সাংবাদিক প্রতিদিন রাতে পিরেরবাজার এলাকায় পাহারা বসান। এটাকে তাদের ভাষায় চিনির ঘাটি বলে থাকেন।

এসব সাংবাদিকদের নেই কোন ভিত্তি, এরা দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, বাৎসরিক এরখম নাম না জানা অনেক পত্রিকার পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করেন, এদেরকে মেজরটিলা ও পিরেরবাজারের স্হানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা শেল্টার দিয়ে থাকেন। জানা যায়, ঐসব সাংবাদিকদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতাদের বন্ধুও আছেন কয়েকজন।

এ ব্যাপারে শাহপরান পুলিশ ফাড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এরখম একটা খবর আমাদের কাছে এসেছে। তিনি শাহপরান থানার ওসির সাথে আলাপ করে যারাই এসব কান্ডে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নিবেন বলে জানান।

তবে তিনি একজন সাংবাদিকের নাম উল্ল্যেখ করে পরে আবার সরি বলে ফোন রেখে দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button