শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

পানি বেড়েছে ৪৩ নদীতে : বিপদসীমার ওপরে ২৮ স্থান

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সড়কের উপর পদ্মার পানি।ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সড়কের উপর পদ্মার পানি।
আরো ৪৩ নদীতে পানি বেড়েছে। বিপদসীমার ওপরে ছিল ২৮ স্থানে। সার্বিকভাবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি কিছুটা কমলেও ৪/৫ দিন পর এ দুই নদীর পানি আবারো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ দুই নদীর পানি উপরের দিকে কমলেও এ পানি গঙ্গা-পদ্মায় মিশে জমা হচ্ছে মধ্যাঞ্চলের নদীতে। মধ্যাঞ্চলের অল্প কয়েকটি স্থানে পানি বিপদসীমার অতিক্রম করেছে অথবা বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
পানি বিজ্ঞানীদের বক্তব্য অনুযায়ী ৪/৫ দিন মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে। ফলে এসব অঞ্চলে বন্যাও হতে পারে। ঢাকার নিম্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই পানি উঠতে শুরু করেছে।
বিপদসীমার সবচেয়ে বেশি উপরে আছে বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও আরিচায় যমুনা নদী।
এসব স্থানে পানি বিপদসীমার ৭৫ থেকে ১৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এলাসিনে ধলেশ্বরী ১১২ সেন্টিমিটার, বাঘাবাড়িতে আত্রাই ১০৯ সেন্টিমিটার, পদ্মা গোয়ালন্দে ১০৬ সেন্টিমিটার, কানাইঘাটে সুরমা ৬৮ সেন্টিমিটার, জারিয়াজাঞ্জাইলে কংস বিপদসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গঙ্গা-যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, সুরমা, কুশিয়ারার পানি হ্রাস পাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি আরো তিন দিন অব্যাহতভাবে কমতে শুরু করবে। গঙ্গা-পদ্মার পানি আরো দুই দিন বাড়তে থাকবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড আগামী চার দিনের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, বাহাদুরাবাদ ও আরিচায় যমুনা, বাঘাবাড়িতে করতোয়া, আত্রাই নদী, এলাসিনে ধলেশ্বরী, গাইবান্ধায় ঘাগট, হরিহরপাড়ায় বুড়িগঙ্গা, জাগিরে পুরাতন ধলেশ্বরী, কলাগাছিয়ায় ধলেশ্বরী, কাজীপুরে যমুনা, লাখপুরে লক্ষ্যা, নওগায় ছোট যমুনা, সারিয়াকান্দি, সিরাজগঞ্জে যমুনা, তারাঘাটে কালিগঙ্গা, ভাগ্যকূলে পদ্মা, কামারখালিতে গড়াই, খুলনায় রূপসা, সংড়ায় গুড় নদী, সুরেশ্বরীতে পদ্মা, তালবাড়িয়ায় গঙ্গা ৪/৫ দিন পরেও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, টঙ্গিখালের পানির সাথে রাজধানীর সম্পর্ক রয়েছে। এসব নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ফলে ঢাকার কোনো কোনো নিচু এলাকায় সীমিত আকারে বন্যা হতেও পারে বলে জানিয়েছেন পানি বিজ্ঞানীরা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বন্যা অথবা পানির সাথে সম্পর্কিত বিপর্যয়ের কারণে ৭০ শতাংশ মৃত্যু হয়ে থাকে। সময় মতো বন্যা সম্পর্কিত তথ্য যেমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যু কমাতে পারে তেমনি বন্যার সব ধরনের ঝুঁকিও কমিয়ে আনতে পারে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, খোয়াই, কংস, যাদুকাটার মতো আন্ত:দেশীয় নদীতে বন্যা সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না অথবা এসব তথ্য খুব সীমিত পর্যায়ে পাওয়া যায়। আন্ত:দেশীয় নদীর বন্যা সম্পর্কিথ তথ্য-উপাত্ত বন্যা অথবা বন্যার ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক। শত কোটি ডলারের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব সময় মতো সঠিক ও আগাম তথ্য পেতে পারলে। ভারত, ভুটান, নেপাল ও বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন প্রবদ্ধি অর্জনে সহায়তা হতে পারে এ দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য আদান-প্রদান হতে পারলে।
সুত্র: নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button