পানি কমলেও দুর্ভোগের অন্ত নেই

বগুড়ার ধুনটে গত দুইদিন বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। লাখ লাখ পানিবন্দী মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
ভান্ডারবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, চলতি বছরে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউপির ১০টি গ্রাম। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এলাকার পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ৪৮০ হেক্টর আবাদী জমির রোপা-আমন বীজতলা, পাট, শাক-সবজি, মরিচসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়েছে। পানিবন্দী এলাকার প্রায় এক হাজার পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় জীবনযাপন করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান, ধুনট উপজেলায় এ পর্যন্ত বন্যা দুর্গত ৫শ’ পরিবারের জন্য শুকনো খাবার ও ৪০.৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। এরমধ্যে শুকনো খাবার ও ২০.৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র বলছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং পানিবন্দী এলাকায় যতটুকু উঁচু জায়গা রয়েছে সবখানে আশ্রয় নিয়েছে বানভাসী পরিবারগুলো। গবাদি প্রাণির সঙ্গে খোলা আকাশে নীচে বাস করছে তারা। দুর্গত এলাকায় নিরাপদ পানির রয়েছে চরম সংকট। গো-খাদ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এছাড়া দুর্গত এলাকায় সাপের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে অসুস্থ, বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সমস্যায় কষ্টে জীবন-যাপন করছেন।
ইউএনও রাজিয়া সুলতানা বলেন, দুর্ভোগ এড়াতে দুর্গত এলাকার চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও বানভাসী মানুষের বিভিন্ন সংকট মোকাবেলায় জরুরি সহায়তা দিতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।
সুত্র : ডেইলি বাংলাদেশ




