উপমহাদেশশিরোনাম

পাকিস্তানে বিরোধী জোটে অস্বস্তি

পাকিস্তানে বিরোধী ১১ দলীয় জোট পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টে (পিডিএম) জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ জোটের অন্যতম শরিক জমিয়তে উলেমায়ে ইসলাম-ফজলে (জেইউআই-এফ) মতবিরোধে সিনিয়র চারজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করে দলের ভিতর দল সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন মাওলানা মুহাম্মদ খান শেরানি, হাফিজ হোসেন আহমেদ, মাওলানা গুল নাসিব খান এবং মাওলানা শুজাউল মুলক। অন্যদিকে জোটের অন্যতম শরিক পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রেসিডেন্ট শেহবাজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপের পক্ষে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তার ভাতিজি দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। এতে আরো বলা হয়, জেইউআই-এফ দলের মুখপাত্র বলেছেন, দলীয় শৃংখলা ভাঙ্গার জন্য সিনিয়র চার নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কমিটির সদস্য আগা আইয়ুব শাহ, মাওলানা আবদুল ওয়াসি, মাওলানা আবদুল হাকিম আকবরি ও অন্যরা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে চার নেতাকে বহিষ্কার করেছেন। তবে এতে দলীয় প্রধান মাওলানা ফজলুর রেহমানের সম্মতি আছে কিনা তা জানা যায়নি। মুখপাত্র বলেছেন, বহিষ্কার হওয়া চার নেতা যদি তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন এবং ক্ষমা চান, তাহলে কমিটি তাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে। আগেই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল যে, জেইউআইএফ দলের প্রধান মাওলানা ফজলুর রেহমানের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের মতবিরোধ চলছিল। পিডিএমের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন মাওলানা ফজলু। কয়েকদিন আগে তার কড়া সমালোচনা করেন মাওলানা শেরানি। তিনি কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডিওলজির (সিআইআই) চেয়ারম্যান। তিনি মাওলানা ফজলুকে ‘সিলেক্টেড’ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এই শব্দটি পিডিএম ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অবমাননা করতে। ২২ শে ডিসেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে মাওলানা শেরানি পিডিএমকে অপ্রাকৃতিক বা অস্বাভাবিক একটি জোট বলে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এই জোটের কোনো আদর্শ নেই। শিগগিরই তা ভেঙে যাবে। তারা শুধু ক্ষমতার জন্য লড়াই করছে। প্রতিটি দলেরই নিজস্ব স্বার্থ আছে। এসব বক্তব্যের পর দলের ভিতর দল চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে বরখাস্ত করা চার নেতার বিরুদ্ধে। জেইউআই-এফের তথ্য বিষয়ক সেক্রেটারি এবং মুখপাত্র আসলাম গাউরি বলেছেন, তারা এসব কর্মকান্ড চালাচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। এর পিছনে থাকতে পারে সরকার বা তার কোনো পক্ষ। তিনি বলেন, বরখাস্ত নেতারা ক্ষমতাসীনদের হাতের পুতুল হয়ে গেছেন। ওর
ওদিকে পিএমএল-এনের ভিতরে দ্বিমতের আভাস পাওয়া গেছে। শুক্রবার মরিয়ম নওয়াজ টুইটে বলেছেন, পিডিএম সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবে না। এই অবস্থানে অটল আছেন তার পিতা ও দলীয় প্রধান নওয়াজ শরীফ। এমন আলোচনার খবরকে তিনি অর্থহীন, ভুয়া বলে অভিহিত করেন। ওদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, তার চাচা বর্তমান দলীয় সভাপতি শেহবাজ শরীফ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার পক্ষে। ক্ষমতাসীন পিটিআইয়ের জোটের অংশীদার পিএমএল-ফাংশনালের মোহাম্মদ আলী দুরানি কোট লাখপতিতে জেলে শেহবাজ শরীফের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, শেহবাজ শরীফ আলোচনার পক্ষে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button