জাতীয়শিরোনাম

পরিবহন সংকটে ঢাকামুখী যাত্রীরা

দেখতে দেখতে কেটে গেল পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের পর প্রায় এক সপ্তাহ। কিন্ত ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঈদের রেশ কাটেনি এখনও। গত সপ্তাহের রবি থেকে মঙ্গল তিন দিন ঈদের ছুটি থাকলেও কার্যত চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের ঈদের ছুটি কেটেছে টানা ১০দিন।
গত সপ্তাহের বুধবার (২৮ জুন) সবচ অফিস-আদালত খোলা থাকার পরও অধিকাংশ মানুষ পরিবার-পরিজনদের সাথে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ফিরতে শুরু করেছে শুক্রবার থেকে। রোববার অফিসে যোগ দিতে অনেকে রওয়ানা করেছেন শনিবার। যার ফলে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পরিবহন সংকটে পড়েছেন অনেক যাত্রী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পায়নি কেউ কেউ। কেউবা ২-৪ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে বাসের সিট খালি না পেয়ে দ্বিগুন ভাড়ায় দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের পদুয়ার বাজার, ময়নামতি, চান্দিনা, মাধাইয়া, ইলিয়টগঞ্জ, গৌরীপুর বাস স্টেশন ও দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় যাত্রীদের এমন ভোগান্তি দেখা গেছে।
শনিবার বিকেলে চান্দিনা-বাগুর বাস স্টেশনে ঢাকাগামী যাত্রী আব্দুল ওহাব জানান, বেলা সাড়ে ১১টায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বাস স্টেশনে এসেছি। এখন প্রায় ৪টা বাজে। কোনো গাড়িতে সিট খালি পাইনি। পরিবার না থাকলে হয়তো দাঁড়িয়ে হলেও কোনো রকমে যেতে পারতাম।
কথা হয় তাহমিনা আক্তারের সাথে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা স্পেশাল বাসের জন্য প্রায় ২ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে লোকাল পরিবহনে ১শ টাকার জায়গায় ২শ টাকা ভাড়া দিয়ে বাসে উঠেছি।
এদিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালী অঞ্চলের অধিকাংশ লোকাল পরিবহন পদুয়ারবাজার, ময়নামতি ও চান্দিনা স্টেশন থেকে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।
গাড়ি চালক আব্দুল মতিন জানান, ‘যাওনের সময় (ঢাকা যাওয়ার সময়) ভাড়ার অভাব নাই। আওয়ন (আসা) লাগে খালি। চান্দিনা থেইক্কাই ২শ টাকা কইরা ভাড়া নিয়ে আবার ঢাকা চইল্লা যাই। নোয়াখালী যাইতে যে সময় লাগে তার তিন ভাগের এক ভাগ সময় লাগে, ঢাকার থেইক্কা কুমিল্লা আইতে’।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সম্পর্কে জানান, ‘এহন সিজন, ঢাকা থেইক্কা আইতে খাইল্লা আওয়ন লাগে। ২শ না নিলে ভাড়া পোষায় না’।
এদিকে, মহাসড়কের যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের তৎপরতা দেখা গেছে।
সুত্র : নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button