নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সুযোগে ঠাকুরগাঁওয়ে জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : দেশে বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলনে রৈাজ্যকর অচলাবস্থার সুযোগ নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে রাতের আঁধারে এক সেনা সদস্যর জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক দাদন ব্যাবসায়ীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ঐ সেনাসদস্য ন্যায় বিচারের স্বার্থে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের নাগেশ^রবাড়ী নামক এলাকায়। জানা যায়, ওই এলাকার মৃত- নন্দ দুলাল রায় এর ছেলে সেনা সদস্য মিঠুন চন্দ্র রায় পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া সম্পত্তি ভোগ দখলে থাকাবস্থায় ২০১৮ সালে একই এলাকার মহৎপাড়া গ্রামের মৃত-হাফিজ উদ্দিনের ছেলে দাদন ব্যাবসায়ী দেলোয়ার হোসেন এর সাথে ৩ শতক জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ভূয়া দলিল তৈরী করে দেলোয়ার হোসেন ওই তিন শতক জমি নিজের দাবি করেন। মিঠুন বিষয়টি ধনতলা ইউ পি চেয়ারম্যানকে অবগত করলে চেয়ারম্যান সমর চ্যাটার্জি সালিশ মিমাংসার মাধ্যমে পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান দেন। কিন্তু দেলোয়ার হোসেন সকলের সামনে তা মেনে নিলেও পরবর্তীতে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারী করান, এমনকি মামলাও করেন, বর্তমানে জমিটির উপর দুটি মামলা চলমান রয়েছে।
এমতাবস্থায় সম্প্রতি দেশে কোটা আন্দোলনের ফলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে-এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেলোয়ার হোসেন রাতের আঁধারে সীমানা প্রাচীরগুলো ভেঙ্গে দেন। পরে ঘটনা জানতে পেরে সেনা সদস্য মিঠুন চন্দ্র রায় গত ২১ জুলাই বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সেনা সদস্য মিঠুন রায় জানান, দেলোয়ার হোসেন অনেক ধূরন্ধর ব্যক্তি। উনি দেশের আইন-কানুনের তোয়াক্কা করেন না, জাল কাগজপত্র তৈরী করে আমার দখলীয় পৈতৃক জমি অবৈধভাবে দখলের পায়তারা করে আসছে। আমি ন্যায্য বিচারের আশায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানা সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি। আশাকরি আমি ন্যায় বিচার পাবো।
অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন এর সাথে কথা বললে তিনি সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলার বিষয়টি অস্বীকার করেন, তবে জমি নিয়ে বিরোধের কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে ধনতলা ইউপি চেয়ারম্যান সমর চ্যাটার্জি জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বসে মিমাংসা করে দিয়ে মিঠুনকে সীমানা প্রাচীর করে দেওয়া হয়েছিলো। এখন শুনছি দেলোয়ার তা ভেঙ্গে ফেলেছে, তাও আবার যখন দেশে কোটা আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরী হয় সেসময়। কারফিউ থাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টির সমাধান করা হবে বলেও জানান তিনি।




