slider

নেছারাবাদ সমাজ সেবা অফিস থেকে ফাইল সরানোর অভিযোগ

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি : নেছারাবাদ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকটি রেজিষ্টার সহ ১২ বস্তা পুরানো কাগজ বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ঐ অফিসের ফিল্ড সুপার ভাইজার জানে আলম এর বিরুদ্ধে। পাশ্ববর্তী বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামে একজন বাঙ্গারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। কোন এক বন্ধের দিন জানে আলম ওই কাগজ বিক্রি করেছেন। তবে কবে কখন অফিস থেকে কাগজগুলো সরানো হয়েছে তা সঠিক যানা যায়নি।
সমাজ সেবা কর্মকর্তা তপন কুমার বিশ্বাস জানান, আমাদের পুরানো অফিস ভেঙ্গে স্থানান্তর করা হয়েছে। সে সময়ে অফিস থেকে সব কাগজ বস্তায় ভরে নতুন অফিসে আনা হয়েছে। অফিসের অফিস সহকারি কাম-কম্পিউটার মানিক লাল মিস্ত্রী একটি রেজিস্ট্রার খুজতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে। অফিসের পুরানো কাগজ জানে আলমের দায়িত্বে থাকত। কাগজ না পেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে কাগজ না পেয়ে বাধ্য হয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন কুমার বিশ্বাস বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
খোজ নিয়ে জানাযায়, ফিল্ড সুপার ভাইজার জানে আলম নেছারাবাদ সমাজসেবা অফিসের সব চেয়ে পুরানো স্টাফ। অফিসের বেশিরভাগ কাজই তার দায়িত্বে থাকত। কোন এক ছুটিরদিন অফিস থেকে ১২ বস্তা পুরানো কাগজ সরিয়ে ফেলেন।
সরিয়ে নেওয়া সেই কাগজ তিনি প্বার্শবর্তী বানারীপাড়ার ইলুহারে এক ভাঙারি দোকানির কাছে বিক্রি করেন। কাগজ ক্রেতা সাইদুল এবং মো: রানা নামে দুই ব্যবসায়ি ওই কাগজ কিনেছেন। কাগজ ক্রেতা দু’জনেই জানে আলমের কাছ থেকে ওই কাগজ কিনেছেন বলে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন।
এ বিষয় জানার জন্য গত দু’দিন ধরে নেছারাবাদ সমাজসেবা অফিসে ঘুরেও জানে আলমকে পাওয়া যাচ্ছিলনা। পরে গত সোমবার তার মুঠোফোনে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে ফিল্ড সুপার ভাইজার জানে আলম বলেন, আমি কোন কাগজ বিক্রি করিনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমি এখন দূরে আছি আপনার সাথে সামনা সামনি কথা বলে চা খাব।
আজ মঙ্গলবার তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তখন তার ফোনে ফোন দিলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, অফিসের চাবি তার কাছে থাকে । কিছু দিন পূর্বে একটি কাজ করতে গিয়ে একটি রেজিস্টার দরকার হয়ে পড়ে। অনেক খোজা খুজির পরও না পেয়ে বিষয়টি জানে আলমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন। অফিসের আরো বেশ কিছু রেজিষ্টার খুজতে গিয়ে পাওয়া যায়নি।
অফিসের কাগজ উদাও হওয়ার ব্যাপারে তিনি থানায় কোন জিডি করেছেন কিনা জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা আরো বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং গতকাল শহর সমাজসেবা অফিসার আখলাকুর রহমান স্যার এসেছিলেন এ নিয়ে তদন্ত চলমান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button