নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ : রাতেই ইলিশ শিকার শুরু

দেশের দক্ষিণের জেলা ভোলাসহ উপকূলীয় এলাকায় আজ মধ্যরাতে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে। রাত ১২টার পর জেলেরা আবারো মেঘনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে ইলিশ শিকারে নামবে। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরোন, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরন ও বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। নির্ধারিত সময়ে সরকার জেলেদের জন্য ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করে।
মৎস্য বিভাগ জানায়, এবছর ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সাধারনত ইলিশের প্রধান প্রজনন সময়কাল হিসেবে ধরা হয়েছে। পূর্ণিমার আগের ৪ দিন থেকে ও আমাবস্যার পরে ৩ দিন পর পর্যন্ত প্রজনন সময়। ভরা মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমওয়ালা ইলিশ সাগরের লোনা পানি থেকে নদীর মিঠা পানিতে এসে ডিম ছাড়ে। তাই ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য উপকুলীয় সকল জেলার নদ-নদীতে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম সকালে বাসস’কে বলেন, ইলিশ অন্যান্য সময় ডিম ছাড়লেও এ সময়টাতে বেশি ডিম ছাড়ে। এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ ২০ থেকে ২২ লাখ ডিম ছাড়ে। মৎস্য বিভাগের নিয়মিত অভিযান ও প্রচার প্রচারনার কারণে এবছর জেলেরাও অনেক সচেতন ছিলেন। ফলে তারা নদীতে ইলিশ শিকারে নামেনি।
তিনি আরো বলেন, তারপরেও অসাধু জেলেদের একটি চক্র ইলিশ শিকারের চেষ্টা করেছে। তাদেরকে মৎস্য বিভাগ কঠোরভাবে দমন করেছে। গত ২১ দিনে জেলায় ১৮৪টি মোবাইল কোর্ট ও ৪৭৪টি অভিযানের মাধ্যমে ১৭৯ জেলের জেল, ৭ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন অলস সময় কাটানোর পর জেলেদের ফের নদী নামার প্রস্তুতি চলছে। কেউ নৌকা মেরামত করছে, কেউ জাল রিপু করছে। সব মিলিয়ে এক ধরনের উৎসবমুখুর পরিবেশে বিরাজ করছে জেলে পল্লীগুলোতে।
জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতি’র সভাপতি মো: নুরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, এ বছর জেলেরা নদীতে নামেনি। কারণ তারা আগের চেয়ে অনেক সচেতন। আজকের ইলিশ থেকে আগামী দিনের লাখ লাখ ইলিশ হবে। তাই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে আজ মধ্যে রাতে পুনরায় ইলিশ শিকারে যাবে জেলেরা। বাসস।




