
তারিক চয়ন
বেনজির ভুট্টো। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর কন্যা। প্রথম কোন সরকার প্রধান যিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তানের মা হয়েছেন। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে সারা দুনিয়া তাকে চেনে ‘ডটার অফ দ্য ইস্ট’ বা ‘প্রাচ্যের কন্যা’ হিসেবে।
১৯৫৩ সালে অবস্থাপন্ন পরিবারে জন্মলাভকারী বেনজির ভুট্টো বিশ্বসেরা দুই প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতির ওপর পড়াশোনা করেন। বাবা জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রতিষ্ঠাতা, দাদা শাহ নাওয়াজ ভুট্টো ছিলেন বড় রাজনীতিবিদ।
পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে তিনি বাবাকে মন্ত্রী এবং নবম শ্রেণীতে থাকাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দেখতে পান। ছোটবেলা থেকেই তাই বিশ্বের সব বাঘা বাঘা কূটনীতিক এনং রাজনীতিবিদদের সাহচর্য লাভের বিরল সৌভাগ্য হয় তার।
সেনা শাসক জিয়াউল হক ১৯৭৯ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ফাঁসি দেন। পিতার মৃত্যুর পর বেনজীর সক্রিয়ভাবে পাকিস্তানের রাজনীতি শুরু করলে জিয়াউল হক সরকার মোট ৮ বার তাকে গৃহবন্দী ও কারাবন্দী করে। ১৯৮৪ সালে তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসনে লন্ডন চলে যান। ১৯৮৫ সালে প্যারিসে ভাই শাহনাওয়াজ ভুট্টোর মৃত্যু হলে বেনজির শাহনাওয়াজের লাশ নিয়ে পাকিস্তান ফিরে আসেন।
১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান পিপলস্ পার্টিকে ঢেলে সাজান বেনজীর এবং তার মা নুসরাত ভুট্টো৷ যৌথভাবে তারা পার্টির কো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালের জুলাই মাসে বেনজীর সিন্ধুর ব্যবসায়ী আসিফ আলী জারদারীকে বিয়ে করেন। এ দম্পতি ৩ সন্তান জন্ম দেন। নানা উত্থান পতনের পর ১৯৮৮ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন বেনজীর ভুট্টো। কিন্তু ১৯৯০ সালে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের মাত্র দুই বছরের মাথায় তাকে অব্যাহতি দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি গুলাম ইসহাক খান।
সুত্র : মানবজমিন




