নিয়ামতপুরে তাপদাহে পুড়ছে বরেন্দ্রভূমি, আমের ফলনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

জনি আহমেদ,নিয়ামতপুর(নওগাঁ)প্রতিনিধিঃ বরেন্দ্রভূমি খ্যাত নওগাঁর নিয়ামতপুরে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। পাশাপাশি বিপন্ন হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। একটু বৃষ্টির জন্য চারিদিকে হাহাকার পড়ে গেছে। রুক্ষ হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। এদিকে আমের রাজধানীখ্যাত এলাকায় মাঝারি ও তীব্র তাপদাহে ঝড়ে পড়ছে আমের গুটি।
এ অবস্থায় ফলন বিপর্যয়ের পাশাপাশি আমের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আম চাষিরা। তবে হতাশ না হয়ে আমগাছের গোড়ায় সেচ, নিয়মিত পরিচর্যা ও বালাইনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। অন্যদিকে তীব্র তাপদাহে বোরো ধানে সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। তাপদাহ বেড়ে যাওয়ায় বোরো আবাদে দ্বিগুণ সেচ দিতে হচ্ছে। তাই উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুর উপজেলা বরেন্দ্রভূমি হওয়ায় এখানে দিন দিন পানির স্থর নিচে নেমে যাচ্ছে।
এতে উপজেলার মাদারীপুর,ডাঙ্গাপাড়া, ঝাঁঝিরা, কামারপাড়া, রসুলপুর সহ বেশ কিছু এলাকায় সেচ পাম্পের পানি কমে গিয়েছে। এতে মালিকানাধীন সেচ পাম্পের মালিক ও কৃষকেরা বোরো ধানী জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে। এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠ-ঘাট সব শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছে। মাঠে মাঠে এখন বোরো মৌসুমে ধানের শীষ বের হওয়ার সময় অতিবাহিত করছে। এসময় ধানের জমিতে পানির বিশেষ প্রয়োজন। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় ধানের কাঙ্খিত ফলন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার বাগানমালিকরা বলেন, চলতি বছরে আমগাছে ব্যাপক আমের গুটি রয়েছে। তবে প্রচণ্ড খরায় আম বাগানগুলোর মাটি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। আর এতে মাটিতে রস না থাকায় আমগাছে ঝুলে থাকা গুটিগুলো ঝরে পড়ছে। প্রতিদিন মণে মণে আম ঝরছে বাগান থেকে। খুব শিগগিরই প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টির না হলে আম চাষিদের চরম লোকসান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মাহবুব-উল আলম বলেন, প্রচণ্ড গরমে মানুষের সর্দি, কাশি, জ্বর ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এতে বৃদ্ধ এবং শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বৃদ্ধ ও শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার ও বেশি বেশি তরল খাবার খেতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।




