নায়কের নাম মাহমুদউল্লাহ

কিছু মানুষের জন্মই হয় পার্শ্বনায়ক হয়ে থাকার জন্য। যারা কখনোই লাইমলাইটে আসেন না, তারকাদের ছায়া হয়েই থাকতে হয় তাদের। অথচ যে কোন লড়াইয়ে তাদেরও থাকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তেমনই একজন। পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই যিনি সাকিব-তামিম-মাশরাফিদের খ্যাতির ছায়ায় নিভৃতে অবদান রেখেছেন দলের হয়ে। একমাত্র গত বিশ্বকাপের পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি ছাড়া সেভাবে পাদপ্রদীপের আলোয় আশা হয়নি এই টাইগার অলরাউন্ডারের।
জাতীয় দলের মতো এবারের বিপিএলেও যেন একই ভূমিকায় মাহমুদউল্লাহ। তামিম ইকবাল, মোহাম্মদ নবি কিংবা মুশফিকুর রহিমরা যখন বারবার টুর্নামেন্টের সেরার পারফরমারের তালিকায় নাম উঠিয়েছেন তখনও আড়ালেই ছিলেন তিনি। অথচ প্রতি ম্যাচেই ব্যাটে কিংবা বলে ভুমিকা রেখেছেন দলের হয়ে।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই শেষ ওভারের বোলিং কারিশমায় দলকে এনে দিয়েছেন জয়। ৬ বলে মাত্র ৭ রান দরকার ছিলো রাজশাহীর। স্পেশালিষ্ট বোলার ছিল দলে কিন্তু মাহমুদউল্লাহ তাদের ওপর ভরসা করার চেয়ে কঠিন দায়িত্বটা নিজেই নিলেন। শেষ ওভারে বল করতে এসে নিলেন ৩ উইকেট। অবিশ্বাস্যভাবে ৩ রানে ম্যাচ জিতলো খুলনা। দলের তৃতীয় ম্যাচেই একই ভুমিকায় অবতীর্ণ হন এই দলপতি। সে ম্যাচে হাতে চার উইকেট নিয়ে ৬ বলে মাত্র ৬ রান দরকার ছিলো চিটাগং কিংসের। আবারো বল হাতে নিলেন মাহমুদউল্লাহ এবং আবারো বাজিমাত। এবার ছয় বলে মাত্র এক রান দিয়ে নিলেন ৩ উইকেট। আবারো ৩ রানের জয়।
রোববারের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ঢাকা ডায়নামাইটসের বিরুদ্ধে আরো একবার নিজেই নায়কের ভুমিকায়। এই ম্যাচ ছিলো দলের ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। সে লড়াইয়ে নিজেই উৎরে নিলেন দলকে। মাত্র ২৮ বলে তুলে নিয়েছে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি।
লিগ পর্বের শেষে এসে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় এখন তার অবস্থান দুইয়ে। একমাত্র তামিম ইকবালের পিছনে থাকা মাহমুদউল্লাহর রান ১২ ম্যাচে ৩৬৯. দুটি হাফ সেঞ্চুরির সাথে চল্লিশোর্ধ ইনিংস তিনটি। পাশাপাশি বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ৯টি। ব্যাটে-বলে টুনামেন্টের সবচেয়ে সফল পারফরমার তিনিই।
নামী দামি তারকার ভিড় না থাকায় শুরুতে অনেকেই খুলনাকে এবারের আসরের ফেবারিটের তালিকায় রাখেননি। মাহমুদউল্লাহ প্রমাণ করেছেন অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে তারকার চেয়ে পারফরমার আর যোগ্য নেতৃত্ব বেশি কার্যকর। কয়েকটি ম্যাচেই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মূহুর্তে চমৎকার কৌশলি সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘুড়িয়ে দিয়েছেন ম্যাচের মোড়। যা তার নেতৃত্বের গুণকে ফুটিয়ে তোলে। অবশ্য মাহমুদুল্লার অধিনায়কত্ব গত বিপিএলেও দেখেছে বাংলাদেশ। সেবার বরিশাল বুলসের গড়পড়তা মানের একটি দল নিয়ে পৌছে গেছেন ফাইনালে। এবারো দল ফাইনাল থেকে মাত্র একটি জয় দূরে। শেষ পর্যন্ত কতদূর যাবেন মাহমুদউল্লাহ তা দেখার জন্য আর কটা দিন অপেক্ষা করতে হবে।




