নাসিরনগরের ঘটনায় শাহবাগে দিনভর বিক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের ঘর-বাড়ি ও মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ-লুটপাটের প্রতিবাদে এবং এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে আজ শুক্রবার দিনভর রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ হয়েছে। এতে শুক্রবার ছুটির দিনেও আশপাশের সব সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের অপসারণ দাবি করে তার কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন হিন্দু শিক্ষার্থীবৃন্দ, সাধারণ হিন্দু শিক্ষার্থীবৃন্দ, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, রমনা কালি মন্দির ও আনন্দমীয় আশ্রম পরিচালনা পরিষদসহ কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে শিক্ষার্থী শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টা থেকে সড়ক অবরোধ করে। সড়ক বন্ধ থাকায় শাহবাগ হয়ে কোনো দিকেই যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।
নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১০টায় জগন্নাথ হলের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি টিএসসি-দোয়েল চত্বর হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া বেশ কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে জড়ো হয়ে মিছিল করে শাহাবাগে আসেন। সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে এর আগে সকাল থেকেই জাতীয় জাদুঘরের সামনে কর্মসূচিতে থাকা কয়েকটি সংগঠনও এ সময় শাহবাগে অবস্থান নিয়ে অবরোধে যোগ দেয়।
ব্যানার-ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিলো ‘হিন্দু হয়ে জন্মানোই কি আমাদের অপরাধ’, ‘দেশত্যাগই কি আমাদের একমাত্র পথ?’, ‘হিন্দুজাতির অপমান মানি না, মানব না, নাসিরনগরে হামলা কেন জবাব চাই’।
বিক্ষোভ চলাকালীন মাঝে মাঝে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক প্রিয়াংকা বোস কান্তা সমাবেশে বলেন, বলা হচ্ছে বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এই অবরোধ কি তাই প্রমাণ করে?
তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক দেশে কোনো সাম্প্রদায়িক বৈষম্য কিংবা এলিমেন্ট থাকতে পারে না। সরকার যদি অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে থাকে তা প্রমাণ করে দেখাক।
মানিক রক্ষিত নামের এক শিক্ষার্থী সমাবেশে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও সনাতন ধর্মের মানুষদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে গড়ার কথা বলেছিলেন আজও তা হয়নি। এখনও সনাতন ধর্মের মানুষের উপর নির্যাতন চলছে, এটা দুঃখজনক। হামলাকারীদের বিচার না হওয়ায় বারবার এই হামলার ঘটনা ঘটছে।
নাসিরনগরে হামলার ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার ছয়টি হিন্দু পরিবারের খোঁজ মিলছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়ে দেশান্তরী হয়েছে এমন পরিবারগুলোকে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, একটি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীন সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করতে হবে।




