নারীদের প্রলোভন থেকে পুরুষদের রক্ষায় আইন
মালয়েশিয়ার একজন আইনপ্রণেতা নারীদের প্রলোভন থেকে পুরুষদের রক্ষার জন্য নতুন একটি যৌন হয়রানি আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করেছেন। গত সপ্তাহে দেশটির সিনেটে তিনি এই প্রস্তাব পেশ করেন। তার অভিনব এই প্রস্তাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়।
মালয়েশিয়ার হবু প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পিকেআর পার্টির সিনেট সদস্য মোহাম্মদ ইমরান আব্দু হামিদ বুধবার তার এই অদ্ভুত প্রস্তাব পেশ করেন।
তিনি বলেন, ‘ নারীদের কর্মকাণ্ড, বাক্য এবং পোশাক আশাক দ্বারা পুরুষরা যাতে প্রলোভিত না হয় সেজন্য আমি একটি যৌন হয়রানিমূলক আইনের প্রস্তাব করছি। নারীদের এহেন কার্যকলাপে পুরুষরা প্রলুব্ধ হয়ে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি এবং পর্ণোগ্রাফি দেখার মত অপরাধ করে থাকে। ’
৬৫ বছর বয়সি সাবেক নেভি অ্যাডমিরাল বলেন, ‘ এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের পুরুষদের সুরক্ষা দেয়া দরকার। নারীদের কার্যকলাপ, পোশাক আমাদের বিপথে পরিচালিত করে আইন অমান্য করতে প্রলুব্ধ করতে পারে। এর ফলে আমরা ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হই। ’
অবশ্য ইমরানের প্রস্তাবের ইতিবাচক সাড়া দেন।সিনেটের উপ রাষ্ট্রপতি। তিনি এটিকে ভাল দৃষ্টিভঙ্গি বলে প্রশংসা করেন।
এদিকে পিকেআর পার্টির অন্যান্য আইন প্রণেতারা তার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার ইব্রাহিম এটিকে অযৌক্তিক এবং নারীদের প্রতি অবমাননা বলে উল্লেখ করেন।
দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার সিনেটর ইমরান এক বিবৃতিতে তার এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘ যদিও আমার উদ্দেশ্য আন্তরিক ছিল। আমি প্রত্যাশা করিনি আমার এই প্রস্তাব অনেক নারী এমনকি পুরুষদেরও অনুভূতিতে আঘাত হানবে এবং তারা অপমানিত হবেন। ’
নারী অধিকার বিষয়ক গ্রুপ সিস্টার্স ইন ইসলাম টুইট বার্তায় জানায়, যৌন অপরাধ ঘৃণ্য অপরাধ। নারীরা যেধরনের পোশাকই পরুক না কেন, যেসব পুরুষ এই অপরাধ করবে তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতা করতে হবে।




