
নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সাধারণ জনগণ সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় জেলা প্রশাসন সোমবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাসহ সিটি করপোরেশন এলাকায় জন সাধারণের প্রবেশ বন্ধে চেক পোষ্ট বসিয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জে র্যাব-১১ ও পুলিশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়নগঞ্জ শহরের প্রবেশ পথ সাইনবোর্ড ও শিমরাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেক পোষ্ট বসিয়ে সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে কেউ রাস্তায় বের হতে পারছে না।
র্যাব -১১ এর প্রধান দপ্তর আদমজী ইপিজেডের সামনে চেক পোষ্টে দায়িত্বরত এক র্যাব সদস্য জানায়, এখন কারফিউর চেয়ে বেশি চলছে। রাস্তায় জরুরি যানবাহন ছাড়া কোন রিকশাও চলতে দেওয়া হচ্ছে না।
সোনামিয়া বাজারের কাঁচা তরকারী ব্যবসীয়া দেলোয়ার জানান, সোমবার কোন পাইকার আসতে পারে নাই, তাই বাজারে কাঁচা তরিতরকারী সরবরাহ কম। মাছের বাজারেও একই অবস্থা।
বাজার করতে আসা গোদনাইল নয়াপাড়ার মিজান জানান, হেঁটে আসছি আবার হেঁটে যেতে হবে, রাস্তায় পুলিশের ভয় । রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ কোন কথা নাই বেদম পিটাচ্ছে। এখানে অঘোষিত কারফিউ চলছে।
র্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক আলেপ উদ্দিন জানান, লকডাউন বা কারফিউ কোন কিছুই না। কিন্তু কাউকেই অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত বের হতে দেওয়া হবে না।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকাসহ সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও বন্দর থানা এলাকায় এ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এই চারটি এলাকাতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে অনেক বাড়ি লকডাউনে রয়েছে।
রবিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম জানিয়েছেন, আমরা একেবারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবো। কাউকে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়ম ও নির্দেশনা মেনে সকলকে ঘরেই অবস্থান করতে হবে। রাতে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে জরুরি সভা শেষে এসব কথা জানান তিনি।
পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, এখন থেকে আমরা জিরো টলারেন্স। কোন এলাকা থেকে কেউ বের হবে না। নারায়ণগঞ্জে ইনপুট আউটপুট বন্ধ থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের ও ঢুকতে পারবে না। এখন নারায়ণগঞ্জ বেশ গুরুত্বপূর্ণ, সে কারণে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। পিপিই প্রস্তুত করা ও বিদেশী অর্ডার ছাড়া বাকি সব গার্মেন্টস বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি ভালো না হওয়া পর্যন্ত আমরা কঠোর থাকবো।
নারায়ণগঞ্জে করোনায় সোমবার ২জন সহ ৪ জন মারা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ২৩জন। দ্রুত এ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই পুরো জেলাকে লকডাউনের আওতায় আনতে রবিবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান রেখে পৃথক বিবৃতি দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান ও সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।
সুত্র : দেশ রূপান্তর




