নারায়ণগঞ্জে দৈনিক সোজা সাপটা পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় দৈনিক সোজা সাপটা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আবু সাউদ মাসুদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।
রোববার (১১ ডিসেম্বর) রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: সাইদুজ্জামান। গত ৮ ডিসেম্বর মামলাটি করা হলেও ১১ ডিসেম্বর রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে মামলার বিষয়টি অনেকটা গোপন রেখে এরই মধ্যে সাংবাদিক আবু সাউদ মাসুদকে গ্রেফতার করতে তার বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো সাতটি পৃথক পিটিশন আদালতে করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা এ মামলার বাদি শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) হাফিজুর রহমান।
পুলিশ জানায়, গত ৪ ডিসেম্বর দৈনিক `সোজাসাপটা` পত্রিকায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে শামীম ওসমানের নামে `মিথ্যা ও মানহানিকর` তথ্য প্রকাশ করার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৯ ও ৩১ ধারায় ওই পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আবু সাউদ মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
মামলার একমাত্র আসামি `সোজাসাপটা` পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আবু সাউদ মাসুদ নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কার্যকরী কমিটির কোষাধ্যক্ষ। এছাড়া এর আগে তিনি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নারায়নগঞ্জের ষ্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেছেন
মামলার এজাহারে নিজেকে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সচিব পরিচয় দিয়ে হাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, সাংবাদিক আবু সাউদ মাসুদ তার পত্রিকার প্রথম পাতায় `ইবলিশের খপ্পরে সোজাসাপটা` শিরোনামে ইচ্ছাকৃতভাবে সংবাদ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছবি বিকৃত করে রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তার বিরুদ্ধে বিকৃত তথ্য প্রকাশ করেন। প্রকাশিত তথ্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে মামলায় অভিযোগ করেন হাফিজুর রহমান।
এজাহারে আরো বলা হয়, ওই শিরোনামের প্রতিবেদনটি পত্রিকার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদনের কারণে পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে শামীম ওসমানের মানহানি হয়েছে। এমন বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করায় জেলায় অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার উপক্রম হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সাথে আলোচনা করে থানায় মামলা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
সোজা সাপটা পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান পত্রিকাটির `ডিক্লারেশন` বাতিলের চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনের সাথে শামীম ওসমানের একটি কার্টুন ছবিও ছাপা হয়।
মামলার বিষয়ে হলে সাংবাদিক আবু সাউদ মাসুদ সোমবার দুপুরে নয়াদিগন্তকে বলেন, মামলাগুলো মিথ্যা ও উদ্দেশ প্রনোদিত। আমার পত্রিকার ডিক্লেয়ারেশন বাতিল ও আমার বিরুদ্ধে মামলা করা একইসূ্ত্রে গাঁথা। মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা যায় না। লেখেনি বন্ধ করা যায় না।
তিনি বলেন, `আমি কোনো অন্যায় বা মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করিনি। সাংবাদিকতা করি, মামলা হতেই পারে। কিন্তু অন্যায়ের সাথে কোনো আপস করব না। মামলা আইনগতভাবে মোকাবিলা করবো।`
তিনি জানান, তার পত্রিকার `ডিক্লারেশন` বাতিল করা হয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর থেকে পত্রিকাটির মুদ্রণ বন্ধ আছে।
মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ভুল উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো ডিক্লারেশন বাতিলের একটি চিঠি গত ৮ ডিসেম্বর তিনি পেয়েছেন। তবে তাকে এ বিষয়ে নিজের পক্ষে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি বলে দাবি করেন।
১১ ডিসেম্বর তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত দিয়েছেন বলেও জানান।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: সাইদুজ্জামান বলেন, গত ৮ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি রেকর্ড হয়। থানার একজন উপ-পরিদর্শক মামলাটি তদন্ত করছেন।




