
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান এখন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ।
এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার শিক্ষকদের ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ইয়ং চেঞ্জ মেকারস কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ (ওয়াইসিএমসি)’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
‘ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে তরুণ সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ১২টি সংস্থার তরুণ-তরুণীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এ কোয়ালিশন। সংস্থাগুলো হলো-প্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, ইয়ুথ ফর চেঞ্জ, সেভ দ্য চিলন্ড্রেন, সেরাক বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, ইয়ুথ এ্যালায়েন্স ইন্টারন্যাশনাল, সাইট সেভারস, ভিএসও, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্ক ফোর্স, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট ও এসএনভি নেদারল্যান্ডস।
নতুন এ সংগঠনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব নাছিমা বেগম। সম্মানিত অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুভাষ চন্দ্র সরকার। সেকার বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এসএম সৈকত এতে সভাপতিত্ব করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের জ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি ইয়ং চেঞ্জ মেকারস কোয়ালিশনের (ওয়াইসিএমসি) নেতৃবৃন্দকে এসব বিষয় মাথায় রেখে কাজ করার আহবান জানান।
নাহিদ ওয়াইসিএমসি নেতৃবৃন্দকে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ ও এর সাফল্য সম্পর্কে আগে পড়ার ও জানার আহবান জানিয়ে তারপর সমালোচনা করারও পরামর্শ দেন।
সর্বজন স্বীকৃত শিক্ষানীতি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, অবকাঠামোসহ নানা ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্যের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী ওয়াইসিএমসি নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বলেন, ৯৯ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী এখন স্কুলে যায়, ঝরে পরার হারও অনেক কমে এসেছে, বাল্যবিবাহ রোধেও সরকারের সাফল্য ইর্ষণীয়, আর এসব সরকারের কোন মন গড়া কথা নয়। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলই (এমডিজি) এর প্রমাণ।
তবে এসব ক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন সম্ভব উল্লেখ করে সেদিকটিতে ওয়াইসিএমসি নেতৃবৃন্দকে কাজ করার আহবান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাস্তববাদী ও তথ্যনির্ভর হউন। কোন খোঁজখবর না নিয়ে গতানুগতিক ধারায় ঢালাওভাবে সমালোচনা করবেন না।
বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় বয়ঃসন্ধিকাল ও প্রজনন শিক্ষা অর্ন্তভূক্ত করায় এ ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকে এসব বিষয় অর্ন্তভূক্ত করায় আমাদের অনেক সমালোচনার সম্মুখিন হতে হয়েছিল। কিন্তু এর সুফল এখন পুরো দেশ ভোগ করছে।
ওয়াইসিএমসি নেতৃবৃন্দ বলেন, তাদের এ সংগঠন মূলত বাল্যবিবাহ, প্রজনন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে কাজ করছে। তাই এ ক্ষেত্রে তারা সরকারের কাছে- খসড়া শিশুবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪ অতিসত্বর পাশ করা, তরুণ-তরুণীদের মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা ও নৈতিক অবক্ষয় রোধের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রজনন সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণের সুপারিশ করে।
বাসস




