slider

নতুন দিনে এক ঝাঁক তারুণ্যের আলোর মূকাভিনয়ে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার

মো. নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: রুপবৈচিত্র্যের রুপসী বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কোটি কোটি বাঙ্গালী হৃদয়ে ও শান্তিকমী মানুষের নজর কেড়েছে বাঙালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। মুসলিম ধর্মালম্ভীদের সিয়াম সাধনার মাস বলে বৈশাখের সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানমালায় সরকার এর পাশাপাশি বেসরকারি সহযোগী সংগঠন,স্থানীয়ভাবে সেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্দীপনায় সিয়াম সাধনার পবিত্রতা রক্ষা করে এবারও পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ ১৪২৯।

”মঙ্গলে উষা বুধে পা,যথা ইচ্ছা তথা যা।। ডাকে পাখি না ছাড়ে বাসা,উড়িয়ে বসে খাবে করি আশা”।। সমাজে সাংস্কৃতিক চর্চাগুলো আরো বেগবান ও নারীবান্ধব বহুত্ববাদি সাংস্কৃতিক সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্যে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এর সহযোগীতায় মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার বিনোদপুর নয়াপাড়া নবীন যুব সংঘ ও কনকলতা কিশোরী ক্লাবের আয়োজনে পহেলা বৈশাখ ১৪২৯ এর প্রথম প্রহরে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও মূকাভিনয় অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রা ও মূকাভিনয়ের আগে নববর্ষের তাৎতপর্য্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বিনোদপুর নয়াপাড়া নবীন যুব সংঘের সাধারন সম্পাদক ঢাবি শিক্ষার্থী হারিজ উদ্দিন শিপু এর সভাপতিত্তে¡ ও কনকলতা কিশোরী ক্লাবের সভাপতি তানিয়া আক্তার এর সঞ্চালনায় বৈশাখী মিলন মেলার তাৎপর্য ও সাংস্কৃতিক জাগরনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কনকলতা কিশোরী ক্লাবের সাধারন সম্পাদক রিমা আক্তার। আলোচনায় অংশগ্রহন করেন সিংগাইর পৌরসভার সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান পারভিন আক্তার ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক আমিনুল ইসলাম, বারসিক প্রকল্প কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ। মূকাভিনয়ে অংশগ্রহন করেন রেশমি আক্তার,প্রিয়াঙ্কা আক্তার,পুস্পিতা আক্তার,নুপুর আক্তার, আখি আক্তার,সাদিয়া আক্তার ও অর্পিতা মণি দাস প্রমুখ। এছারাও সহায়ক ছিলেন বারসিক মাঠ সহায়ক আছিয়া আক্তার ও রিনা সিকদার।
উল্লেখ্য তারা নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় জ্ঞানের আলোকে গ্রামীন পরিবেশে বিনোদপুর নয়াপাড়া নবীন যুব সংঘ ও কনকলতা কিশোরী ক্লাব থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে ঢাকা-সিংগাইর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিন করে পুনরায় কনকলতা কিশোরী ক্লাব চত্ত¡রে এসে মিলিত হয়। তারপর তারা সমকালীন সমস্যা তথা নারীর উপর বহুমুখী সহিংসতার ঘটনা নিয়ে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগঠনের উদ্যমী এই তারুণ্যের আলো সকলকে নতুন ভোড়ের স্বপ্ন দেখান। তারা প্রত্যয় করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ও মুসলিমসহ সকল ধর্মালম্ভী মানুষের হৃদয়ে বৈশাখের মিলন মেলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বিশাল জায়গা দখল করে আছে দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই চর্চাকে আরো বেগবান করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি এই চর্চাই পারবে আগামী দিনের নারী-পুরুষের সামাজিক ন্যায্যতাভিত্তিক একটি বহুত্ববাদি নারীবান্ধব সাংস্কৃতিক সমাজ বিনির্মান করতে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button