slider

ধামরাইয়ে নির্যাতনকারী সেই ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের নামে মামলা

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে চুরি ও নারী উত্ত্যক্তের অপবাদ দিয়ে হাসেম আলী (৩২) নামে এক যুবককে চেয়ারম্যানের বাড়িতে তুলে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে তার হাত-পা ভেঙে দেয়ার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গতকাল রাতে নির্যাতনকারী সেই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের নামে অবশেষে মামলা নিয়েছে ধামরাই থানার ওসি। আসামিরা হলো- কুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান, তার দুই ছেলে মমিন হোসেন ও রিপন হোসেন, ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিন এবং চেয়ারম্যানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত খাতরা গ্রামের আব্দুল হক। এ মামলার বাদী হয়েছেন নির্যাতিত যুবকের বড় ভাই জাহের আলী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রথমে মামলা নিতে চায়নি পুলিশ। পরে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে অভিযোগটি রেকর্ড করা হয়। তিনি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। জানা গেছে, ধামরাইয়ের খাতরা গ্রামের মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে হাসেম আলীর বসতবাড়িতে ঘর নির্মাণের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানের। এ নিয়ে ২০২১ সাল থেকে কয়েকবার বিবাদও হয়েছে। গত ৫ মাস ধরে চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই আব্দুল বারেকের ছেলে হারেজ মিয়ার পাঁচতলা ভবন নির্মাণের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছিলেন হাসেম আলী। কাজের মজুরি হিসেবে এক লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন হাসেম।

এ সময় আনোয়ার হোসেনের বাড়ির কাছে পৌঁছলে আনোয়ার ও তার ভাই দেলোয়ার চোর চোর বলে হাসেম আলীকে ঝাপটে ধরে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীসহ নির্মাণাধীন ভবনের মালিক হারেজ মিয়া সেখানে উপস্থিত হন। হাসেমের বিরুদ্ধে চুরির অপবাদটি মিথ্যা মনে করে হারেজ মিয়া সত্যতা যাচাইয়ে তাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে যাওয়ার সময় চেয়ারম্যান লুৎফর হাসেমকে জোর করে তার বাড়িতে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এরপর তার দুই ছেলে ও আবদুল হকসহ হাসেমকে বেঁধে লোহার রড ও পাইপ দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। এতে তার বাম হাত ও বাম পা ভেঙে যায়। খবর পেয়ে হাসেমের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম ও হাসেমের দুই ভাই জাহের আলী, রাহিম আলীসহ পরিবারের লোকজন চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে মিনতি করলেও নির্যাতন বন্ধ করেনি। এমনকি চেয়ারম্যান তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। নিরুপায় হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান তারা। খবর পেয়ে ধামরাই থানার এসআই অসীম বিশ্বাস ঘটনাস্থলে গিয়ে মুমূর্ষু ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হাসেমকে উদ্ধার করেন। এরপর চেয়ারম্যানের হুমকির কারণে তারা থানায় মামলা করতে সাহস পায়নি। পরে গত শুক্রবার রাতে হাসেমের পরিবারের লোকজন থানায় মামলা দিতে গেলেও তখন মামলা না নিয়ে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার এসআই অসীম বিশ্বাস বলেন, প্রধান অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ায় ওসি বিষয়টি ইউএনওসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার পরই গত রোববার রাতে মামলা রেকর্ড করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু পলাতক থাকায় তাদের পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button