ধামরাইয়ে জমি বেদখলকারীর পক্ষে আদালতে দখল প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে জমিতে সাইনবোর্ড ও ফসল চাষাবাদ করে ভোগ দখলে থাকার পরও ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বেদখলকারীর পক্ষে দখল প্রতিবেদন দাখিল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোক্তভোগিরা বলছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা ধামরাই ভুমি অফিসের কানুনগো মোহাম্মদ জুলফিকার আলী ভুট্টো বাদীর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে একতরফাভাবে জমি বেদলকারী বাদীর দখল দেখিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এতে প্রকৃত জমির মালিকদের ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। তারা পুনরায় সরেজমিন তদন্তের দাবি জানান।
জানা গেছে, ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর গ্রামের শহিদুল ইসলাম, জুয়েল হোসেন, আনছার ফকির, রমজান আলী ও শাহদাত হোসেন নামে পাঁচ ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জাবেদ আহমদের কাছ থেকে ফোর্ডনগর দ্বিতীয় খন্ড মৌজায় আরএস ৩০২ দাগের ২৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এরপরই সেখানে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেন এবং একটি সাইনবোর্ডও টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়। এরপর একই এলাকার ফজলুল হক নামে এক ব্যক্তি আম-মোক্তারনামায় নিযুক্ত হয়ে ওই জমির মালিকানা দাবি করে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ ঢাকায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জাবেদ আহমদ, ফোর্ডনগর গ্রামের শহিদুল ইসলাম, জুয়েল হোসেন, আনছার ফকির, রমজান আলী, শাহদাত হোসেনকে। আদালত মামলাটি ধামরাই উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) তদন্তের দায়িত্ব দেন। সহকারী কমিশনার (ভুমি) ফারজানা আক্তার তার অফিসের কানুনগো মোহাম্মদ জুলফিকার আলী ভুট্টোকে সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ১৯ অক্টোবর কানুনগো সরেজমিন তদন্ত করেন।
ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, জমিতে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে আসছি আমরা। তারপরও কানুনগো আর্থিক সুবিধা নিয়ে একতরফাভাবে গত ২৪ অক্টোবর জমি বেদলকারী বাদী ফজলুল হকের পক্ষে দখল দেখিয়ে আদালতে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। এতে আমাদেরকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা পুনরায় বিষয়টি তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় কালা মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া বেগম সমকালকে জানান, ২৬ শতাংশ সম্পত্তিতে কয়েক মাস ধরে চাষাবাদ করে আসছেন শহিদুল ইসলাম গং। একই কথা বলেন ওই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আবদুল খালেকের ছেলে ফোর্ডনগর বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন আপন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়েও দেখা গেছে, ২৬ শতাংশ সম্পত্তিতে বিবাদীদের নামে একটি সাইনবোর্ড টানানো ও জমিতে মৌসুমী ফসল ভুট্টা গাছ রয়েছে।
এ বিষয়ে কানুনগো জুলফিকার আলী ভু্েট্টা তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নালিশী জমিতে বিবাদীদের নামে একটি সাইনবোর্ড টানানো ও ভুট্টা গাছ দেখেছি। কিন্তু সাইনবোর্ডের বাঁশ কাঁচাছিল বিধায় সদ্য দখলের প্রক্রিয়া মনে হয়েছে, তাই বিবাদীদের বিপক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছি।



