আইন আদালত

ধান বিচারপতি সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে : মওদুদ আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র আইনবিদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে আজকের সংকট হলো সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকবে কি থাকবে না সেটির।
তিনি বলেন, একটি রায়কে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া হিসেবে সরকার এবং সরকারি দলের নেতৃবৃন্দরা যে আচরণ করেছেন তা নজিরবিহীন। কোনো সভ্য দেশে, কোনো গণতান্ত্রিক দেশে, কোনো দিন শুনিনি প্রধান বিচারপতিকে গৃহবন্দি করেছেন। এখনও তিনি সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছেন। সরকারের অনুমোদন ছাড়া কেউ তার সাথে দেখা করতে পারেন না। এতে বোঝা যায় তিনি শুধু নজরবন্দি না। তিনি তাদের অধীনে, তাদের কাস্টডিতে, সরকারের হেফাজতে এখন আছেন। আমাদের আইনজীবী নেতৃবৃন্দরা তার সাথে দেখা করতে পারেন না। দেশের সাংবাদিকরা দেখা করতে পারেন না। তার আত্মীয় স্বজনেরা এখনও তার সাথে দেখা করতে পারেন নাই। সরকার এগুলো সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে শুধুমাত্র একটি কারণে, কারণ এ সরকার আমাদের বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।
আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সাথে সাক্ষাতে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ একথা বলেন।
বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষার দাবিতে আজ থেকে দেশের সব জেলা বারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সামনে প্রতিবাদ সভা করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিতায় রায় চৌধুরী।
সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন, অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম, আবেদ রাজা, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, মির্জা আল মাহমুদ প্রমুখ। মানববন্দন ও প্রতিবাদ সভা শেষে আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনে বিক্ষোভ প্রদশন করেন।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, আরেকটি কথা স্পষ্ট হলো। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি ছুটি নিয়েছেন, সরকার যে এই দাবি করেছে সেটি নিছক একটি দাবি। প্রমাণ হয়েছে এভাবে যে, প্রধান বিচারপতি খুব সুন্দর, সবল এবং অত্যন্ত ভালো অবস্থায় আছেন। আমি তার কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখি নাই। তিনি লক্ষ্মীপূজায়, অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন কার্যালয়ে গিয়েছেন। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি যে ছুটি নিয়েছেন-নতুন করে প্রমাণিত হলো এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অজুহাত ছিলো।
তিনি বলেন, সরকারি দল বাংলাদেশের আইনের প্রতি, বিচার বিভাগের প্রতি, ন্যায় বিচারের প্রতি, আইনের শাসন এবং প্রধান বিচারপতির প্রতি যে আচরণ করেছে তা ইতিহাসে কলঙ্ক হয়ে থাকবে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান মওদুদ আহমদ।
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আজ আইনজীবীদের যে বক্তব্য এসেছে তা প্রমাণ করছে দেশের বিচার বিভাগের উপর হামলা এসেছে। এ হামলা নগ্ন, এটা আওয়ামী হামলা। আজ জোর করে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এটা শুধু বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের অসম্মান নয়, এটা বিচারপতিদেরও অসম্মান। এর বিরুদ্ধে আইনজীবীদের আন্দোলন চলবে এবং এই আন্দোলনে আইনজীবীরাই জয়ী হবে। আজকে হয়তো উপর থেকে হামলা শুরু হয়েছে। আপনাদের উপরও হামলা শুরু হবে। আপনাদের অনুরোধ করবো আপনারা একটু প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে শুনে আসুন। কি পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এক মাসের ছুটিতে বাধ্য করা হয়েছে। মাননীয় বিচারপতিগণ আপনাদের শুধু বিচারিক কাজ করাই দায়িত্ব নয়। আপনাদের উপর দায়িত্ব রয়েছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার। আজকে বার সোচ্চার হয়েছে। বারের দাবি আপনাদের মানতে হবে। বার বেঞ্চ ঐক্যবদ্ধভাবে এ বিচার বিভাগের হামলার মোকাবেলা করি।
জয়নুল আবেদীন বলেন, বন্ধের পূর্বে আওয়ামী আইনজীবীরা সরকারের তরফ থেকে বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতি আপনি যদি রায় বাতিল না করেন বন্ধের পরে আপনাকে আর বসতে দেয়া হবে না। এরই প্রতিফলন হিসেবে আজকে জোর করে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রথমে বলেছিলেন তিনি অসুস্থ। আমরা বলেছিলেন তিনি সুস্থ। আমাদের কথাই পরবর্তীতে প্রমাণ হয়েছে। কেননা তিনি অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন এবং পূজামন্ডপে গিয়েছেন। এখন শুনছি তাকে জোড় করে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। ১৯৮২ সালে এভাবে কামাল উদ্দিনকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। আইনজীবীরা আন্দোলন করেছিল। আন্দোলন কখনো বৃথা যায়নি। আমাদের আন্দোলনও সফলতা আসবে।
অ্যাডভোকেট নিতায় রায় চৌধুরী বলেন, সরকার বিচার বিভাগকে ফ্যাসিবাদী কায়দায় কুক্ষিগত করছে। সর্বশেষ প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যা কিছু করা হচ্ছে তা ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত রূপ।
ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, প্রধান বিচারপতির ছুটির দরখাস্ত জাল। তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। এরপরও সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা তার সাথে দেখা করতে যাননি।
তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি তো আপনাদের কলিগ। আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। মানুষ আদালতে বিচার চাইতে আসে। এখন প্রধান বিচারপতিকে অন্তরীণ রাখার জন্য কোথায় বিচার চাইবেন।
উল্লেখ্য, শনিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের সব বারে কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন দেশের সব জেলা বারে আইনজীবীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করবেন। আজ প্রতিবাদ সভায় ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সারা দেশে সব জেলা বারে আইনজীবীরা মানববন্দন ও প্রতিবাদ সভা করছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button