ধলেশ্বরী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন

হুমকির মুখে দৌলতপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক
আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোন করায় হুমকির মুখে পড়েছে কয়েকটি গ্রাম সহ দৌলতপুর-নাগরপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক। স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজসে ঘিওর পুরাতন ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত্রি পর্যন্ত হাজার হাজার ঘনফুট বালু বিক্রি করা হচ্ছে। সংঘবদ্ধ এই চক্রটি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে অবাধে বালু বিক্রি করায় ভূমিধ্বস সহ ভয়াবহ দূর্ঘটনার আশংঙ্কা করছে এলাকার জনগণ।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, ঘিওর পুরাতন ধলেশ্বরী নদীর উত্তর পাশে ড্রেজার বসিয়ে ভূমি দস্যু আরশেদ এবং কুস্তা এলাকায় আনিছ ও শিহাব গং অবাধে বালু উত্তোলন করে ড্রাম ট্রাক, বালুবাহী ছোট ট্রাক ও হাইট্রলিতে প্রতি গাড়ি ১২শ থেকে ১৩শ টাকায় গত কয়েক বছর ধরে অবৈধভাবে বালু বিক্রি করছে। দিনের বেলায় বালু বিক্রির নিষেধ থাকা সত্বেও ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেণীর প্রভাবশালীরা এ বালু বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকায় এলাকার লোকজন ভয়ে মুখ ফুটে কোন প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। সম্প্রতি ঘিওর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) আসমা-উল-হুসনা লীজা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে পয়লা ইউনিয়নের তেরশ্রী গ্রামের আরশেদকে ৫০ হাজার টাকা জড়িমানা করে। দীর্ঘ দিন বালু বিক্রি বন্ধ থাকার পর স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সে পুনরায় বালু বাণিজ্য শুরু করে। ঘিওর বাজারের একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান, সকাল থেকে গভীর রাত্রি পর্যন্ত বালু বিক্রি করায় আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য করতে মারাত্বক অসুবিধা হচ্ছে। অপর দিকে স্কুল-কলেজ চলাকালীন সময়ে ছাত্রছাত্রী সহ বাজারের লোকজনের যাতায়াতে মারাত্বক অসুবিধা হচ্ছে। বালু ব্যবসায়ী আরশেদ জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলাপ করেই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বালু বিক্রি করা হচ্ছে। কাজেই পত্রিকায় লিখে কোন লাভ হবে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবা আইরিন বলেন, দ্রুত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



