
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের যমুনা নদীতে এমবি নওশিন নামের একটি বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে ৪ জনকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। আটকের পর তাদের দৌলতপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে গতকাল ২১ এপ্রিল সোমবার তাদের চাঁদাবাজি মামলায় কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানাগেছে,রবিবার দুপুরে উপজেলার বাঘুটিয়া বাজারের উজানে যমুনা নদী থেকে চাঁদাবাজদের আটক করা হয়। এরা হলেন, লোকমান হোসেনর ছেলে লাভলু হোসেন (২৫), রাহাজ উদ্দিনের ছেলে শরীফ (৩৫), রফিকুল ইসলামের ছেলে রঞ্জু আহমেদ (২৬) এবং বাবুল শেখের ছেলে শাকিল আহমেদ (২৮)। তাদের সবার বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার চরকালিকাপুর গ্রামে। এ ঘটনায় আটককৃতদেরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে বালু ব্যবসায়ী আক্কাস আলী দৌলতপুর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা করেছেন।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের যমুনা নদী থেকে ইজারাকৃত মালু মহল থেকে বালু ক্রয় করে তা মানিকগঞ্জের পদ্ম-যমুনা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌ পথে প্রতিদিন শত শত বাল্কহেডে নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা। চক্রটি প্রতিদিন ৫শ থেকে ৬শ করে টাকা চাঁদা নেয়। এরা শিবালয়ের আলোকদিয়া চর, পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া, বাচামার, চরকালীকাপুর স্পটগুলোতে যমুনায় নৌকা নিয়ে চক্রটি প্রতিদিন চাঁদা তোলে। এসব চাঁদা না দিলে তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে ভয়ে তাদের কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।
ভুক্তভোগী আক্কাস আলী মামলায় উল্লেখ্য করেন, সে একজন বালু ব্যবসায়ী। তার বালু বহনের জন্য তিনটি বাল্কহেড পদ্মা-যমুনায় ভাড়ায় চলাচল করে। প্রতিনিয়তই বাল্কহেডে থাকা সুকানি, গ্রিজার ও শ্রমিকদের লাঠিসোঁটা দিয়ে ভয় দেখিয়ে ৫শ থেকে ৬শ টাকা চাঁদা নেয় একটি চক্র। ওই চক্রটি গত রবিবার সিরাজগঞ্জ থেকে বালু বোঝাই করে আসার সময় এমবি নওশিন নামের বাল্কহেড থাকা সুকানি, গ্রিজম্যানকে মারধর করে চাঁদা আদায় করতে থাকে। এ সময় পাটুরিয়া নৌ পুলিশকে খবর দিলে স্পিডবোটে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাদের হাতেনাতে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা,২টি হাসুয়া এবং ৩ হাজার ৫০০ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। চাঁদাবাজদের দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর আল মামুন জানান, আক্কাছ আলী নামের একজন তার বাল্কহেডে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।



