
রতন রায়হান, রংপুর: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক জনমত গঠন করতে রংপুর মহানগরে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে গণঅধিকার পরিষদ।
সংগঠনটির মহানগর সদস্য সচিব ইয়াছিন আলী এই প্রচারণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই গণভোটকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত নেওয়া হচ্ছে। রংপুর মহানগরের তাজহাট থানার একটি ওয়াজ মাহফিলে হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ইয়াছিন আলী।
তিনি বলেন, যারা গণভোটকে হালকাভাবে দেখছেন কিংবা সমালোচনা করছেন, তারা মূলত বিষয়টির গভীরতা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। গণভোট কোনো একক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি সমষ্টিগত সংস্কার প্যাকেজ, যার মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। অপশাসন, লুটপাট ও স্বৈরাচার যাতে আর কখনো ফিরে না আসে সে জন্যই এই গণভোট। শেখ হাসিনার মতো স্বৈরশাসকের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে আমাদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে ইয়াছিন আলী বলেন, “চুরি, দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, ভোট ডাকাতি বন্ধ করতে হলে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। আর এই সংস্কারের একমাত্র সাংবিধানিক পথ হলো গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার এজেন্ডাকে সামনে রেখেই দেশ পরিচালনা করছে। তাই দেশপ্রেমিক সকল রাজনৈতিক দল ও সচেতন নাগরিকদের উচিত দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয় নিশ্চিত করতে রংপুর মহানগর গণঅধিকার পরিষদ ইতোমধ্যে একগুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, নগরজুড়ে লিফলেট বিতরণ, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোটের প্রস্তাবনা ব্যাখ্যা সভা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে গণভোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুফল সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।
গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদনের জন্য যে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হয়েছে, তার মধ্যে সাংবিধানিক ও নির্বাচন ব্যবস্থা, নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন,নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী গঠন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ,জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট, দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ, সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন বাধ্যতামূলক। গণতন্ত্র ও ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, অধিকার ও সুশাসন,সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি,মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ,বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা,শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা,এছাড়াও জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো সাংবিধানিকভাবে বাধ্য থাকবে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। তার আগে ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা বিষয়ে গণভোট হয়, যেখানে সরকারি হিসাবে প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পড়ে। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর আবার গণভোট আয়োজনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। গণভোট প্রসঙ্গে ইয়াছিন আলী বলেন,এই গণভোট কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ। যারা দেশকে ভালোবাসেন, তারা অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।



