sliderজাতীয়শিরোনাম

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা : সিলেট বিভাগের ১৬ উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

সিলেট থেকে বিশেষ প্রতিনিধি : দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ভারী বর্ষন ও উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢলে এই বছরে তৃতীয়বারের মত তলিয়ে গেছে লক্ষ লক্ষ মানুষের বাড়ী-ঘর, আবাদী জমির ফসল, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গবাদীপশু ও জীবিকার সকল মাধ্যম। কুড়িগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
গত তিন দিনে বাংলাদেশের উজানে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ওই বৃষ্টির পানি ঢল হয়ে বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সব কটি জেলায় প্রবেশ করেছে, যা চলবে আরো কয়েকদিন। ভারতের চেরাপুঞ্জি বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা; গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা জুন মাসে ১২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত তিন দিনে সেখানে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটিও গত ২৭ বছরের মধ্যে তিন দিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছাকাছি পানি চলে আসায় বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক স্থানে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও বৈদ্যুতিক খুঁটি তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রায় পৌনে দুই লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন রয়েছেন। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সিলেটের সাথে সুনামগঞ্জের সকল যোগাযোগ।
ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জ জেলাসহ সিলেট বিভাগের ১৬ উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গ্রিডে সমস্যা হওয়ায় সুনামগঞ্জের সব উপজেলাসহ বিভাগের ১৬ উপজেলা পুরোপুরি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট এখন একেবারেই বিচ্ছিন্ন। পুরো সুনামগঞ্জ জেলাসহ মোট ১৬টি উপজেলায় বিদ্যুৎ নেই। যার কারণে মোবাইল ফোন যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় কোনরকমে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃষ্টি আর ভারতের মেঘালয়-আসামের উজানের ঢলে চলতি মৌসুমে তৃতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে সিলেট অঞ্চলে।

এর আগে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের ফেইসবুক পেইজে জানানো হয়েছে, বন্যার পানি ছাতক ও সুনামগঞ্জ গ্রিড উপকেন্দ্রে প্রবেশ করায় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই উপকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। সে কারণে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। এতে বলা হয়, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে সিলেটের কুমারগাঁও উপকেন্দ্র ঝুঁকির মধ্যে আছে। যে কোনো সময় এই উপকেন্দ্রও বন্ধ করা প্রয়োজন হতে পারে।
বন্যাদুর্গত সিলেট ও সুনামগঞ্জে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সেনা সদস্যদের মাঠে নামানোর পাশাপাশি নৌবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি সিলেটের কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার, সিলেটে ৭০ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ১২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছিল।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম, মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
সে কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে পূর্বাভাসে।
বন্যাকবলিত এলাকার স্থানীয়রা জানিয়েছে, বন্যায় জেলায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই মুহূর্তে সুনামগঞ্জের সবার ঘরে খাওয়ার পানি নেই। বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ। পরিস্থিতি ক্রমে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
জেলার প্রতিটি উপজেলাই কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ ঘরেই হাঁটু থেকে গলাসমান পানি। নৌকার অভাবে অনেকে ঘর ছেড়ে নিরাপদেও যেতে পারছে না। এমন অবস্থায় পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে জেলার তিন উপজেলায় সেনাবাহিনী নেমেছে।
সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) দেবজিৎ সিংহ বলেন, সুনামগঞ্জে বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীকে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় শিগগির এ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button