জাতীয়শিরোনাম

দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের সদিচ্ছারও বাস্তায়নের দায় আরো বাড়ল

পতাকা ডেস্ক : ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে উদযাপনের অনুমোদন প্রদানের জন্য সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন ও স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এর পাশাপাশি তারা বলেছে, সরকারিভাবে এ দিবস পালনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে জাতীয় পর্যায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে তার দায়িত্ব পালনের জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির ও অন্যদিকে দুর্নীতি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারপূরণে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছারও বাস্তায়নের দায় আরো বৃদ্ধি পেল।
টিআইবি’র পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে উদযাপনের অনুমোদন প্রদানের করে। এব্যাপারে সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন ও স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
এ ব্যাপারে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড .ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের (৯ ডিসেম্বর) জাতীয় স্বীকৃতি প্রদান সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের গৃহীত নীতি-কৌশলের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
টিআইবি আরো মনে করে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদভুক্ত অন্যতম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে সরকারিভাবে এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছারও সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এছাড়াও এ সিদ্ধান্ত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে, বিশেষত ১৬তম অভিষ্টের অর্জন এবং জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদের ১৩ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে জনগণ-সুশীল সমাজ-গণমাধ্যমের সম্মিলিত শক্তি’র পরিপূর্ণ বিকাশের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বলতর করবে। টিআইবি’র পরামর্শে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মন্ত্রিসভার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় টিআইবি দুদককে অভিনন্দন জানায়। একইসাথে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত পরিপত্রটি অতিসত্ত্বর প্রকাশ ও তা পরিপালনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর ‘দুর্নীতিবিরোধী সনদ’ গৃহীত হয়। সেই বছর ৯ ডিসেম্বর মেক্সিকোর মেরিডাতে অনুষ্ঠিত জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেয়া ১২৯টি দেশের মধ্যে ৮৭টি দেশ সনদটিতে স্বাক্ষর প্রদান করে। স্বাক্ষরের দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে ও বিশ্বব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরির জন্য জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০৪ সাল থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই দিবসটি গুরুত্বের সাথে পালিত হয়ে থাকে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এবং বিশেষ করে সাধারণ জনগণের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ২০১৩ সাল থেকে ৯ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস’কে সরকারিভাবে স্বীকৃতির ঘোষণার দাবি জানিয়ে এসেছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ অন্যান্য সদস্যরাষ্ট্রের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button