জাতীয়শিরোনাম

থ্যাংকস, এবার চলে যান: র‌্যাব ডিজি

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের মাঠের পরিবেশ সুসংগত রাখতে বিনা প্রয়োজনে কাউকে ঢাকায় না থাকার আহ্বান জানিয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনে প্রার্থীর ভাই-বোন আত্মীয় যারা ক্যাম্পেইন করার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন, তাদের থ্যাংকস। এবার আপনারা চলে যান। কাল-পরশু যারা রাজধানীতে চলাফেরা করবেন তারা ঠিকানা নির্দেশক ফটো আইডি কার্ড সঙ্গে রাখুন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় কোনো লোকের অপতৎপরতা আমরা চাই না। কারণ আজ রাতে প্রচারণা শেষ হয়ে যাবে। যদি কেউ থেকেও যান, আশা করব আপনি যেখানে আছেন, সেখানেই থাকবেন। তবে যারা জেনুইন ভোটার তাদের চলাফেরা ও ভোটদানে সমস্যা করবেন না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে র‌্যাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
বেনজীর আহমেদ বলেন, সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে ছিনতাইকারী, ম্যানহোলের ঢাকনা চোর শ্রেণির লোক যাতে নির্বাচিত হয়ে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এটা খুব দুঃখজনক আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও ম্যানহোলের ঢাকনা চোর কাউন্সিলর হয়ে আসে। আমাদের সামাজিক যে আন্দোলনগুলো রয়েছে বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধগুলোতে জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হবেন-তাদের প্রত্যেককে আমরা সঙ্গে পাই। আমরা জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক সঙ্গে কাজ করতে চাই।
ভোটের সময় বিনা প্রয়োজনে নাগরিকদের ঢাকায় অবস্থানে নিরুৎসাহিত করে র‌্যাব ডিজি বলেন, সঙ্গে ঠিকানা নির্দেশক ফটো আইডি রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব ডিজি বলেন, বাইরের কেউ ঢাকায় অবস্থান করলে তাদেরকে জেলে পাঠাব বিষয়টা এমন নয়। প্রত্যেকটা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, জেল জুলুমের ভীতি আমরা দেখাতে চাই না।
তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে র‌্যাবের একটি প্যাট্রলিং টিম থাকবে। ঢাকায় পাঁচটি ব্যাটালিয়ন রয়েছে, সেখানে স্ট্রাইকিং ফোর্স রিজার্ভ থাকবে। যাতে যে কোনো আপত্কালীন পরিস্থিতি অল্প সময়ের মধ্যে মোকাবিলা করা যায়। কমান্ডো বাহিনী, হেলিকপ্টার টিম প্রস্তুত থাকবে। বোম স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। তাছাড়া ২৪ ঘণ্টা পুরো পরিস্থিতি স্পেশাল মনিটরিংয়ে থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুয়ায়ী বৃহস্পতিবার থকে র‌্যাব সদস্যরা মাঠে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সকল হুমকি এবং ঝুঁকি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং করা হচ্ছে।
র‌্যাব ডিজি আরও বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং প্রবেশ পথে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি করা হবে। ভোট গ্রহণ, গণনা থেকে শুরু করে পরদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে র‌্যাব মাঠে থাকবে। যেগুলো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে সেদিকে র‌্যাবের বাড়তি নজর থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button