বিনোদন

তোমাদের সঙ্গে এটাই হয়তো আমার শেষ সাক্ষাৎ

মাত্র ৫ মাস আগে নায়করাজ রাজ্জাক আমাদের কয়েকজন বিনোদন সাংবাদিকদের তার বাসায় ডাকলেন। আমাদের ১৫ জন সাংবাদিকের সাথে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় দিলেন। বারবার স্মৃতিকথা বলতে গিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললেন, ‘তোমাদের সাথে হয়তো এটাই আমার শেষ সাক্ষাত্। বলছিলেন আহমেদ জামান চৌধুরীর কথা। ‘শোনো তখনকার বিনোদন সাংবাদিকতা ছিল অন্যরকম। আজাচৌ এর সাথে আমার যেন নানান বিষয়ে যেমন পরামর্শ হয়েছে, তেমনি তার সাথে আমার তর্কও হয়েছে। সেই তর্কগুলো হতো সেয়ানে সেয়ানে। কারণ বিনোদন সাংবাদিকরাই তো আমাকে নায়করাজ উপাধি দিয়েছেন।’
কথায় কথায় চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অনুষঙ্গে রাজ্জাক-কবরীর পর্দা রসায়নের কথাও বলছিলেন। রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের ভেতরে অদ্ভুত এক বন্ধুত্ব ছিল। যা ছিল একেবারেই পারিবারিক। আমার স্ত্রীর সাথেও তার নিয়মিত কথা হতো। কিন্তু চলচ্চিত্র জুটি নিয়ে কবরীর সাথে আমার যে গল্পগুলো, সত্য-মিথ্যা যাই লিখুক না কেন, আমরা কেউই তা ভাঙতে দিতাম না। কারণ সবার আগে আমরা ইন্ডাস্ট্রির কথা চিন্তা করতাম। ’
নিজের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি সহকর্মীদের সহযোগিতা করেছেন নায়ক রাজ। নায়ক রাজ ইত্তেফাককে বলেছিলেন, ‘আমার রোমান্টিক ইমেজের পাশাপাশি যখন নিজেকে বদলাতে থাকলাম, তখন এই আমিই ফারুক, ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল রানাকে নিয়ে বসলাম। আমাদের ভেতরে পরস্পরের বিরোধ রাখলে তো নিজেদেরই ক্ষতি। এখনও যখন নিজেদের ভেতরে নানান তর্ক বিতর্কের কথা শুনি কষ্ট লাগে। ছোট্ট এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে গোছানো দেখে যেতে পারলাম না।’
এদেশের অন্যতম কিংবদন্তি নায়ক যিনি তার পরিবারকে এই চলচ্চিত্রের ভেতরেই রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে নায়ক রাজ বলেন, ‘আমার কাছে কোনো বাধাধরা নিয়ম ছিল না। সম্রাট-বাপ্পা ওরা হয়তো বাবাকে দেখে শিখেছে। আমি বলেছি-তোরা পারবি এত কষ্টের জীবন বেছে নিতে। ওদের সিনেমা-নাটকের প্রতি আগ্রহটা আমায় আরো উত্সাহিত করেছে। এ কারণেই ওদের আর বাধা দিইনি।’
বারবার নিজের জীবনের স্মৃতিগুলো বলতে গিয়ে চোখ ভিজিয়েছিলেন। বলছিলেন, জীবনে টাকা পয়সা না, সম্মানটার দিকে চেয়ে রয়েছিলাম। এদেশের অগণিত মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছে, তাতে আর কোনো আক্ষেপ নেই আমার। শুধু চলচ্চিত্রের পরিবেশ ভালো হোক। এদেশের তরুণরাই চলচ্চিত্র’র প্লট বদলে দেবে এ আমার বিশ্বাস।’
সুত্র: ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button