
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে তে-ভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি ও বিপ্লবী রাণী ইলামিত্রের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের রাওতাড়া গ্রামে অবস্থিত ‘ইলামিত্র মট ও সংগ্রহশালা’ প্রাঙ্গণে ‘রাণী ইলামিত্র স্মৃতি সংসদ’-এর আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাণী ইলামিত্র স্মৃতি সংসদ এর সভাপতি বিধান সিং এর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায়- অনুষ্ঠানে সম্মানীত অতিথির বক্তব্য রাখেন- “নাচোলের রাণী” চলচিত্রের পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড। তিনি বলেন, রাণী ইলামিত্র ছিলেন কৃষক অধিকার ও নারীর মর্যাদার প্রতীক। তাঁর সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।” ইলা মিত্র কেবল তে-ভাগা আন্দোলনের নেত্রী না তিনি ছিলেন ইতিহাসের এক সাহসী নারী যিনি নিপীড়নের মুখেও সত্যের পক্ষে ছিলেন। তাঁর জীবন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইলামিত্র গবেষক ও লেখক আলাউদ্দিন আহমেদ (বটু),বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি ইসরাইল হক সেন্টু প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও অসংখ্য নারী ও পুরুষ। এর আগে রাণী ইলামিত্রের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। সকাল দশটায় ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে দিনব্যাপী। এছাড়াও ২য় দিন সকাল ৯-৫টা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী (আলকাপ)। ৩য় দুপুর ২-৫ টা পর্যন্ত বাউল সংগীত এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল ছয়’টা পর্যন্ত চলবে (কালীপুজা) চতুর্থ দিন সকাল ৯ টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হরিনাম কীর্তন দুপুর ২-৫টা পর্যন্ত পাদাবলী কীর্তন, এবং ওই দিনই সন্ধ্যা ৬টায় কালীপুজা বিসর্জন এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন ইলামিত্র। ১৯৪৫ সালে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুরের জমিদার পরিবারের সন্তান রমেন্দ্রনাথ মিত্রের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত নাচোলে তে-ভাগা আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন, যেখানে কৃষকরা জমির ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ চাওয়ার ন্যায্য দাবি করেন। এই আন্দোলনের নেতৃত্বের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নির্যাতনের শিকার হন তিনি। তবুও মাথা নত করেননি। তাঁর দৃঢ়তা ও ত্যাগ তাঁকে করেছে বাংলার নারীর সংগ্রামের এক অমর প্রতীক। ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর এই বিপ্লবী নারী মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর আদর্শ ও আন্দোলনের চেতনা আজও নাচোল-সহ সমগ্র বাংলাদেশে মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। “যে নারী নিজের কষ্ট ভুলে গরিব, দুঃখী, সাঁওতাল, আদিবাসী, কৃষকের অধিকারের জন্য লড়েছিলেন, তাঁকে জাতি চিরকাল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করবে,রাণী ইলা মিত্রের সংগ্রামী জীবন ও মানবিক আদর্শ নাচোলবাসীর গর্ব, জাতির প্রেরণা জোগায়।
বিপ্লবী রানী ইলামিত্রের জীবন কাহিনী নিয়ে পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড একটি সিনেমা নির্মিত করেন। “নাচোলে রানী” ছবিটিতে ইলামিত্র হিসাবে অভিনয় করেন শাহনা সুমি।
চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ২০০৬ সালের ৩০ জুনে। দিনটি সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৫০ তম বার্ষিকী হিসাবে পালন করা হয়েছিল।



