তদন্ত কমিটিতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি চান ছাত্ররা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটি মানে না ছাত্ররা। তারা শিক্ষার্থী প্রতিনিধিসহ স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে ‘ডাকসুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীবৃন্দ’ এর ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র মাসুদ আল মাহদি এসব দাবি জানান।
গত শনিবার সিনেট ভবনে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহকারী প্রক্টর এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ফজলুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাই তাদের উপর হামলা করেছেন। প্রক্টরের উদ্ধৃতি ‘ন্যাক্কারজনক হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছ।’ দিয়ে তারা বলেন, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এটি প্রহসনের তদন্ত হবে। এসময় তারা শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সহ স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা সহ কয়েক দাবি দাবি পেশ করেন। এগুলো হলো- অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচন দেয়া, হামলায় নেতৃত্ব প্রদানকারী সহকারী প্রক্টর রবিউল ইসলামের পদত্যাগ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা।
সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত শনিবার উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের সময় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করতে যান। কিন্তু সেখানে মূল ফটকে তালা দিয়ে সহকারী প্রক্টর রবিউল ইসলাম, যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক মাহমুদুর রহমান, টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিনা মাহাবুব হোসেনসহ ১৫-২০ জন শিক্ষক সেখানে মারমুখী অবস্থান নেন। সেখানে বহিরাগত দুজন শিক্ষকও ছিলেন।
আন্দোলনত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে আগামী ২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের নাসির আবদুল্লাহ, বাংলা বিভাগের প্রগতি বর্মণ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আবু রায়হান, সিজান আহমেদ প্রমুখ।
ইত্তেফাক/




