শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাস সংকট : যাত্রী ভোগান্তি চরমে

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ : চলছে ঈদের ছুটি, ছুটছে মানুষ বাড়ির পথে। ঢাকা আরিচা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। মানিকগঞ্জ হয়ে দক্ষিনাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার কয়েকলক্ষ মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ এ মহাসড়ক হয়েই। দিনরাত এসব মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে জেলার কয়েকটি স্থান থেকে টিকেট কাউন্টারের বাস সার্ভিসগুলোর পাশাপাশি নিয়মিতভাবে চলাচল করছে বেশ কিছু লোকাল বাস। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপে সব লোকাল বাসই এখন ডাইরেক্ট হয়ে গেছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পরেছে জেলার মহাসড়কের ১৩ টি বাসষ্ট্যান্ডে লোকাল বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা।
শুক্রবার সকাল থেকে হুট করেই অজ্ঞাত কারনে লোকাল বাস সার্ভিসের বেশ সংকট দেখা যায় মহাসড়ক জুড়ে। মহাসড়কের বিভিন্ন বাসষ্ট্যান্ডে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে । এতে করে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান মহাসড়কে নিয়মিভাবে চলাচলকারী একাদিক ব্যবসায়ী, ঈদ কেনাকাটা করতে আসা মানুষজন।
জেলার শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাট ও আরিচা লঞ্চঘাট থেকে রাজধানীতে নিয়মিতভাবে চলাচল করছে পদ্মালাইন পরিবহনের বাস সার্ভিস। এছাড়াও লোকালভাবে চলাচল করছে যাত্রীসেবা ও লাক্স্রারী পরিবহনের দেড় শতাধিক বাস। মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর, হরিরামপুর ও দৌলতপুর উপজেলা থেকে রাজধানীতে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ভিলেজ লাইন নামের একটি বাস সার্ভিস। জেলার সাটুরিয়া উপজেলা থেকে ধামরাইয়ের কালামপুর হয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করে এস.বি লিংক বাস সার্ভিস। লোকাল বাস হিসেবে চলাচল করে জনসেবা বাস। এছাড়া মানিকগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড থেকে শুভযাত্রা বাস সার্ভিস সেবা টিকেটের মাধ্যমে হলেও কিছু শুভযাত্রা আবার চলাচল করে লোকালে।
লোকাল বাসগুলো নিয়মিতভাবে যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করলেও এখন কম দুরুত্বের যাত্রী বহনে তাদের বেশ অনিচ্ছা রয়েছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাদিক শ্রমিক নেতা ও পরিবহন শ্রমিকেরা। ঢাকার গাবতলী ও সাভার থেকে পাটুরিয়াগামী যাত্রীদের কিছুটা বাড়তি চাপ থাকার কারনে অল্প দুরুত্বের যাত্রী বহন করতে তাদের অনিহা বলে অভিমত প্রকাশ করেন অনেকইে।
ঘিওরের বানিয়াজুরী থেকে নিয়মিতভাবে মানিকগঞ্জে যাতায়াত করা মাহফুজ ভূইয়া বলেন, গত ৩/৪ দিন যাবৎ মহাসড়কে চলাচলকারী লোকাল বাসগুলো যাত্রীতে ভরপুর থাকে। টিকেট কাউন্টারের বাসগুলোর মতো লোকাল বাসগুলোও বাসষ্ট্যান্ডে শুধুমাত্র যাত্রীদের নামায়। কিন্তু লোকাল যাত্রীদের বাসে উঠতে দেন না। কিন্তু দূরের যাত্রী হলে তার কিছু চাহিদা থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মহাসড়কের তরা বাসষ্ট্যান্ড থেকে মানিকগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ডের বাস ভাড়া মাত্র ৪ টাকা। কিন্তু লোকাল বাস না পাওয়ার কারনে বাধ্য হয়েই ২০ টাকা দিয়ে লেগুনায় যাতায়াত করতে হয় বলে মন্তব্য করেন নাজমা আক্তার নামের এক গৃহবধূ।
যাত্রীসেবা পরিবহনের চালক আমজাদ হোসেন জানান, অনেক মহাজনেরা (গাড়ির মালিক) ঈদে তাদের গাড়িগুলোকে রং করতে দিয়েছেন। অনেকই আবার ঈদ যাত্রী সামাল দিতে গাড়ির ছোটখাটো কাজগুলো করিয়ে নিচ্ছে। বৃষ্টির কারনে সময় মতো গ্যারেজ থেকে তাদের গাড়িগুলো বের করতে পারছে না। যে কারনে মহাসড়কে লোকাল বাসের সংকট বলে জানান তিনি।
বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপ ছাড়াও ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রয়োজনে মহাসড়কে যাতায়াত করা যাত্রী সংখ্যা বেড়ে যায়। অপরপদিকে লক্কর ঝক্কর যানবাহনগুলো মহাসড়কে চলাচল বন্ধ রাখার জন্যে শ্রমিক নেতাদের বলা হয়েছে। যে কারনে লোকাল বাসের কিছুটা সংকট থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button