জাতীয়শিরোনাম

ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে চারদিনের সফরে বাংলােদেশ পৌঁছেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এ সময় তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি দেয়া হয় গার্ড অব অনার।
জানা গেছে, ঢাকায় পৌঁছানো ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন। এরপর ধানমন্ডি ৩২ এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
দুপুরে বারিধারায় ভুটান দূতাবাসে যাবেন তিনি। বিকালে বুদ্ধিস্ট মোনাস্টারি কমপ্লেক্স, বাসাবো, সবুজবাগ এবং এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। আজ বৈঠক করবেন এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের সঙ্গেও।
সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টাইগার গেটে শেরিংকে অভ্যর্থনা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (শিমুল) দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে ভুটানের বাণিজ্য সুবিধা ছাড়াও কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে কয়েকটি চুক্তি সই হতে পারে।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (চামেলী) দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিস্বাক্ষর ও যৌথ প্রেস বিবৃতি অনুষ্ঠিত হবে। এদিন রাতে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে তার সম্মানে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে অংশ নেবেন শেরিং।
জানা গেছে, সফরকালে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং।
১৪ এপ্রিল সকাল সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সুরের ধারার পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া পুরনো বিদ্যাপীঠ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও যাবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি আড্ডায় মিলিত হবেন শিক্ষার্থী জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে। ২০০৩ সালে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার ১৫ বছর পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশি অ্যালামনাই ভুটানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে এসে বিদেশি কোটায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ২৮তম ব্যাচে ভর্তি হন এবং ১৯৯৯ সালে এমবিবিএস পাস করে ঢাকায় সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এফসিপিএস কোর্স সমাপ্ত করেন। ২০১৩ সালে তিনি সিভিল সার্ভিস থেকে অব্যাহতি নিয়ে রাজনীতিতে যোগদান করেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভুটানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা নির্বাচনে তার রাজনৈতিক দল ডিএনটি জয়লাভ করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button