ডোপ-পাপী থেকে মহানায়ক

তার মুখের আদলের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে লিওনেল মেসির। কিন্তু বার্সেলোনা মহাতারকার মতো তার পায়ে নেই তিকি-তাকা ফুটবলের জাদু। তার বদলে হাতে রয়েছে সেই ম্যাজিক ঘূর্ণি, যার চক্রব্যূহে জড়িয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল অ্যালিস্টেয়ার কুকের ইংল্যান্ড! জাদুকরের নাম ইয়াসির শাহ! ৭২ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে শনিবার যার পুনর্জন্মই হলো লর্ডসে।
ছ’বছর আগে কুখ্যাত স্পট-ফিক্সিং কলঙ্কের দাগ মুছে ফেরা মোহাম্মদ আমির যদি এক নম্বর আকর্ষণ হন ক্রিকেটবিশ্বের কাছে, দু’নম্বর আলোচ্য হিসাবে অবশ্যই উঠে আসবে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুন থেকে উঠে আসা ৩০ বছরের এই লেগস্পিনার। মাত্র তিন মাস আগে ডোপ পরীক্ষায় ধরা পড়ার পর যার ক্রিকেটীয় ভবিষ্যৎ নিয়েই তৈরি হয়েছিল বড়সড় এক প্রশ্নচিহ্ন। কিন্তু মানসিক শক্তিতে ভর করে এবং স্পিন কিংবদন্তি, প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় তারকা শেন ওয়ার্নের পরামর্শে তিন মাসের নির্বাসন কাটিয়ে ইয়াসির শুরু করলেন নতুন অধ্যায়। মেলবোর্নে বসে পাক স্পিনারের ভেল্কিতে মুগ্ধ শেন ওয়ার্নের টুইট, ‘অভিনন্দন বন্ধু। আমিও কিন্তু পাঁচ উইকেট কখনও পাইনি লর্ডসে’! যোগ করেছেন, ‘নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে এই বোলিং করে যাও’।
ওয়ার্নের সেই বার্তায় আরও চাঙ্গা ইয়াসির। তার মন্তব্য, ‘‘এই মাঠে ওয়ার্নের মতো কিংবদন্তি পাঁচ উইকেট পাননি! আমার কাছে এর চেয়ে সেরা প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!’’ যোগ করেছেন, ‘‘আমাকে বলা হয়েছিল, পেসারদের চাপ হাল্কা করার দায়িত্ব নিতে। তাই কোনো বোলিং নিয়ে কোনো পরীক্ষায় না গিয়ে সঠিক লাইনে বল করে গিয়েছি। এই সাফল্যে আমি খুশি।’’
কিন্তু ওয়ার্নের সঙ্গে আরো একজন তৃপ্ত পাক স্পিনারের এই সাফল্যে। তিনি মুস্তাক মোহাম্মদ। দুই দশক আগে লর্ডসেই প্রাক্তন পাক লেগস্পিনারের (৫/৫৭) দাপটে ধসে পড়েছিল ইংল্যান্ড। বর্তমান পাক দলের বোলিং কোচ বলছেন, ‘‘ওর বোলিং অ্যাকশনে রয়েছে ওয়ার্নের ছায়া। লাইন এবং লেংথ মেপে বল করার ক্ষেত্রে রয়েছে অনিল কুম্বলের মতো দৃঢ়তা। ইয়াসিরকে দেখে আজ ফের মনে হচ্ছে উপমহাদেশীয় স্পিনের শাসন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আমার ধারণা, এই পারফরম্যান্স ইয়াসিরকে ফের আগার মেজাজে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।’’
শনিবার তৃতীয় দিনের শেষে সুবিধাজনক জায়গাতেই রয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে স্কোর ২১৪/৮। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান এগিয়ে ২৮১ রানে। বলের পাশাপাশি ৫৭ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত রয়েছেন সেই ইয়াসির!




