slider

ডুবে যাওয়া ফেরির দ্বিতীয় মাস্টার বরখাস্ত, রজনীগন্ধাকে মেরামত করে আবার ভাসানো হবে

শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় যানবাহনসহ ফেরি রজনীগন্ধা ডুবির ঘটনায় রজনীগন্ধার দ্বিতীয় মাস্টার আঞ্জুমান ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান ড.একেএম মতিয়ার রহমান সাময়িকভাবে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন,এর আগে ফেরি ডুবির ঘটনায় গত সোমবার তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়,দুর্ঘটনার আগের দিন মঙ্গলবার রাতে ফেরি রজনীগন্ধার মাস্টার অফিসার মেহের আলী শিফট অনুযায়ী ৬ ঘন্টার ডিউটি শেষ করে বিশ্রামে চলে যান। এরপর রাতের শিফট অনুযায়ী মধ্যরাতের ৬ ঘন্টা শিফটের দায়িত্ব পালন করেন তৃতীয় শ্রেণীর সনদধারী অর্থাৎ দ্বিতীয় ফেরি মাস্টার আঞ্জুমান ইসলাম।

বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান ড.একেএম মতিয়ার রহমান জানান,আমাদের টিম ও ইঞ্জিনিয়াররা আছেন, তারা ফেরিটিকে ইন্সপেকশন করছেন। তবে উদ্ধার হওয়ায় ফেরি রজনীগন্ধা খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ইঞ্জিন পরিস্কার আর কিছুটা মেরামত করতে হবে। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, উদ্ধার করা ফেরি রজনীগন্ধাকে ডকইর্য়াড নিয়ে মেরামত করা হবে। সম্ভব হলে ফেরিটি চালিয়ে নেওয়া হবে। আর যদি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে ট্রাক বা অন্য কোনভাবে ডকইয়ার্ডে নেওয়া হবে। মেরামত করে পরীক্ষা করে,পুনরায় নদীতে ভাসানো হবে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা কিছু নতুন ফেরি নিয়েছি। আমরা একটা হিসেব করেছি,সে অনুযায়ী অচিরেই পাটুরিয়ায় কিছু নতুন ফেরি রিপ্লেসমেন্ট করা হবে।

বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান ড.একেএম মতিয়ার রহমান আরও জানান,দুর্ঘটনার পর ফেরির ইনর্চাজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেন ফেরি ছাড়ার আগে ফেরিগুলো চেক করে, ফেরিগুলো ছাড়া হয়। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে,ইনচার্জের অনুমতি নিয়ে ফেরি ছাড়তে হবে। তবে ঘাটে আসা যাত্রীদের চাপের কারনে ফেরিগুলো দ্রুত সময় ছাড়ার কারনে রুটিন মোতাবেক ফেরিগুলো চেক করা সম্ভব হয় না। তারপরও ফেরি মাস্টার ও ফেরি চেকআপের বিষয়টি একটা সিস্টেমের মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। এছাড়াও দ্বিতীয় শ্রেণীর মাস্টার হয়ে ফেরি পরিচালনার অভিযোগে দ্বিতীয় ফেরি মাস্টার আঞ্জুমান ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম শাহ মোহাম্মদ খালেদ নেওয়াজ জানান,পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে যেসকল ফেরি চলাচল করছে,তার প্রত্যেকটির ফিটনেস আছে। পানিতে চলার কারনে দেখতে জড়ার্জীণ মনে হলেও বাস্তবে ইঞ্জিনসহ অন্যান্য কারিগরি বিষয়গুলো সঠিক আছে। ফেরি উদ্ধারের পর আমাদের টিম ও ইঞ্জিনিয়ারা ফেরিটিকে ইন্সপেকশন করছেন। উদ্ধার হওয়া ফেরি রজনীগন্ধার কোথাও ফাঁটল বা গর্ত আছে কি না। অথবা ইঞ্জিনের কোন ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও ইন্সপেকশন করা হচ্ছে।

এবিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি’র পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ভাসমান কারখানা মধুমতির এজিএম (মেরিন-১) আহামেদ আলী জানান,দ্বিতীয় শ্রেণীর মাস্টার দিয়ে ফেরি পরিচালনার কোন সুযোগ নেই। ফেরি পরিচালনা করতে হলে,তাকে অবশ্যই প্রথম শ্রেণীর সনদধারী মাস্টার হতে হবে। তবে বরখাস্ত হওয়ায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ফেরি মাস্টার আঞ্জুমান ইসলামের বিষয়টি উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন।

মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া জানান,গত বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরিটি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরি ঘাটের অদূরে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ছোট-বড় ৯টি যানবাহন এবং চালক-হেলপারসহ ২১জন ব্যক্তিকে নিয়ে ডুবে যায়। এঘটনায় ২০জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং নিখোঁজের ৬দিন পর ফেরির সহাকরী ইঞ্জিন মাস্টার হুমায়ন কবিরের লাশ পাটুরিয়া ঘাটের ১৩ কিলোমিটার ভাটিতে হরিরামপুরের পদ্মা নদীর বাহাদুরপুর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এছাড়ও দীর্ঘ আট দিন পর বুধবার রাত ১১টার দিকে ফেরি রজনীগন্ধা উদ্ধার করে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ফেরি ঘাটের পূর্ব পাশের দরিকান্দি এলাকার নদীর পাড়ে নোঙ্গর করা রাখা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button