দূর্ঘটনাশিরোনাম

‘ডিএনসিসি মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা নেই’

বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজধানীর গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মার্কেটের কাঁচাবাজার অংশে ওই আগুনের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এই মার্কেটটি অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সকালে এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এটি আর ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।’
ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ভোরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করছে। সেনা ও নৌ বাহিনীও পরবর্তী সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়।
এখন পর্যন্ত এ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। মার্কেটের বিভিন্ন দিক থেকে এখনও ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে।
ডিএনসিসি কাঁচাবাজার অংশে মূলত বিভিন্ন মুদি ও খাদ্য সামগ্রীর দোকান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সেখানে প্রায় তিনশ দোকান রয়েছে। আগুনের ফলে প্রচুর মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মার্কেটটি ঘিরে রেখেছে। প্রতিটি দোকানের মালিককেই শুধু ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে। বাইরের কেউ মার্কেটে যেতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক মালামাল পুড়ে একেবারে ছাই হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা যতটুকু পারছেন তাদের মালামাল রক্ষার চেষ্টা করছেন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।
২০১৭ সালে অগ্নিকাণ্ডের পর আবারো একই মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো। এর পেছনে মার্কেট কমিটির কোনো রকম গাফিলতি আছে কি না সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘আমরা এখন চেষ্টা করছি যাতে আগুন না ছড়িয়ে যায়। আগুন কন্ট্রোলে আনার চেষ্টা করছি। তারপরে আমরা এর পরিপ্রেক্ষিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেবো, আবার কেন হলো, এটার পার্মানেন্ট কোনো সল্যুশন করতে পারি কিনা সবগুলো নিয়ে স্টেপ বাই স্টেপ আমি জানাবো আপনাদেরকে।’
এর আগে অগ্নিকাণ্ডের পর এ ধরনের দুর্যোগ এড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয় মার্কেট কমিটির কাছে। সেগুলো বাস্তবায়ন সহয়েছে কিনা সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘সে সুপারিশগুলো আমি দেখবো। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই আমরা ডিসিশন নেবো। মার্কেটের সবার সঙ্গে আমরা কালেকটিভ ওয়েতে আমরা কিছু করতে চাই।’
এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button