
সাধারণত পোশাকের দোকানেই শোভা পায় তারা। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে তাদের গায়ে চড়ানো হয় বাহারি সব পোশাক। কিন্তু ভারতের বেঙ্গালুরুতে ম্যানিকুইন পুতুল দিয়ে চলছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ। পুলিশের টুপি, সাদা জামা, খাকি প্যান্ট আর চোখে রোদচশমা পরিয়ে পুতুলগুলো দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে শহরের সড়কগুলোর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। পুলিশের দাবি, বেপরোয়া চালকরা ট্রাফিক আইন অমান্য করার আগে হঠাৎ করে ওই পুলিশের পোশাকে ওই পুতুল দেখলে থমকে দাঁড়াবে।
প্রায় ৮০ লাখ যানবাহনের শহরটিতে ট্রাফিক আইন অনান্য করার কারণে হরহামেশা লেগে থাকে যানজট, ঘটে নানা দুর্ঘটনা। এক জরিপের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, শহরটিতে প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজারের বেশি ট্রাফিক আইন অমান্যের ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় সেখানকার বেপরোয়া চালকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন এ উদ্যোগটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গৌতম টি নামে এক কলেজছাত্র বলেন, তারা দেখতে কিন্তু চমৎকার। খুব কাছাকাছি থেকে না দেখলে বোঝার উপায় নেই তারা আসল পুলিশ নয়। আমি নিজে দেখেছি অনেক মোটরবাইক চালক সবসময় না পরলেও মোড়ের কাছে এসে গাড়ির গতি কমিয়ে ঠিকই হেলমেট পরছেন। এটা অবশ্যই ভালো বিষয়।
পাশাপাশি সুরাবানা নামে এক অটোচালকও বলেন, ম্যানিকুইন পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলে সহসা আইন ভাঙার সাহস পায় না চালকরা। তিনিও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানান।
তবে এই ডামি পুলিশ শহরটির যানবাহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে আসলেই কতটুকু ভূমিকা রাখবে তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন অনেকে। সলীল কাপ্পান নামে এক জনসংযোগ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, যারা আইন ভাঙে তারা পুলিশ থাকলেও ভাঙে। এই পুতুল দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অবশ্য শহরটির ট্রাফিক পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিআর রবিকান্ত গৌদা জানালেন, তারা ম্যানিকুইন বসানোর যে কৌশল নিয়েছেন তাতে বেপরোয়া চালকরা বিভ্রান্তি হতে বাধ্য হবেন। তিনি জানান, তারা শহরের একেক মোড়ে একেক দিন বসাবেন এই পুতুল পুলিশ। ফলে কোন দিন কোন মোড়ে আসল পুলিশ আর নকল পুলিশ থাকছে তা আগে থেকে জানা সম্ভব হবে না কারও পক্ষে।




