
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র্যালি ও পথসভা নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে জেলা বিএনপি আয়োজিত পথসভায় দলের প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও বিষোদ্গার করেন জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক নেতা।
আলোচনা সভায় ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে না ধরে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও দলীয় মনোনয়ন বঞ্চনার ক্ষোভ প্রকাশে বেশি মনোযোগী হতে দেখা গেছে নেতাদের। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দলের মনোনীত প্রার্থী অতীতে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না, বরং ঢাকায় বসে আয়েসী জীবনযাপন করেছেন। নানা অনিয়ম ও স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যমে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জীবা আমিনা আল গাজী বলেন,“আমরা হাই কমিটির কাছে অনুরোধ করছি, যারা অতীতে নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার করেছে, তাদের যেন আমাদের মাথার উপর চাপিয়ে না দেওয়া হয়। যারা ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বিভিন্ন খাত থেকে ১০% করে নিয়েছে, তাদের কোনো ঠাঁই বিএনপিতে হতে পারে না।”
তার সুরে সুর মিলিয়ে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন বলেন,“বিগত ১৯ বছর যারা দলের পাশে ছিল না, তৃণমূলের খোঁজ নেয়নি, আমরা তাদের নেতৃত্ব মেনে নিতে পারি না। বিএনপি পরিবার হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই, তবে অনৈতিক ও স্বার্থপর রাজনীতির স্থান এই দলে নেই।”
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেনসহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ হাসানসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন ।
অনুষ্ঠিত সভায় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মূল ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তে মনোনয়ন ও দলীয় দ্বন্ধের আলোচনাই প্রাধান্য পায়। বিএনপির এই প্রকাশ্য দ্বন্ধ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির তৃণমূলের ঐক্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল।
সভা শেষে একটি সংক্ষিপ্ত র্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।



