
আবাসিক হলের দাবিতে আগামী রবি ও সোমবার ধর্মঘট ডেকেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ধর্মঘট ডাকলো তারা।
ধর্মঘট চলাকালীন সব ধরণের ক্লাস, পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সংহতি সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক সংহতি সমাবেশের আয়োজন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রায় তিন হাজার ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণে আয়োজিত ওই সংহতি সমাবেশে প্রায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এবং আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের সাথে সংহতি জানান।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট বুধবার রাজধানীর পল্টন মোড়ে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থী রুহুল আমিন। তিনি বলেন, ‘শনিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য না এলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের প্রধান ফটক বন্ধ ছিল। পরে ক্যাম্পাস থেকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব অভিমুখে রওনা দেয় শিক্ষার্থীরা। পল্টনে পুলিশ আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়। পরে আন্দোলনকারীরা পল্টন মোড় অবরোধ করে। দুপুর ১টায় কর্মসূচি শেষ করার পর সংবাদ সম্মেলনে তাদের কথা জানান।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে রুহুল আমিন বলেন, ‘শুক্রবার বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে সংহতি সমাবেশ করা হবে। একইদিন শাহবাগ থেকে মশাল মিছিল করা হবে। পরদিন শনিবার দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন করার আহ্বান করা হচ্ছে।’ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকালে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান।
জানা যায়, আবাসিক হলের দাবিতে আগস্টের প্রথম থেকে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার স্মারকলিপি নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বংশাল এলাকায় তাদের বাধা এবং লাঠিচার্জ করে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ এবং বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল।



