খেলা

জয়ে শুরু, পরাজয়ে শেষ

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণ জয় দিয়ে শুরু হয়েছিল। শেষ হল পাকিস্তানের বিপক্ষে পরাজয়ের স্বাদ দিয়ে। অথচ ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসর দিয়েই বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ওই আসরে পরাজয় দিয়ে শুরু করে জয় দিয়ে শেষ করেছিল। জয়টা পেয়েছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে।
চিত্রনাট্যটা এবার লেখা হল ভিন্নভাবে। যেখানে সাকিব আল হাসান যেন ট্রাজিক হিরো। যিনি একাই লড়ে গেছেন দলের জন্য প্রতিটি ম্যাচে, প্রতিটি ক্ষণে। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও সবচেয়ে বেশি রান সাকিবেরই।
পাকিস্তানের সঙ্গে ৯৪ রানে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের করা ৯ উইকেটে ৩১৫ রানের জবাবে ২২১ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
ব্যর্থতার মিছিলে যোগ দেননি সাকিব আল হাসান। মাথা উঁচু করেই শেষ করেছেন বিশ্বকাপ। শেষ ম্যাচেও করেছেন অর্ধশতক। দলকে জেতানোর জন্য তামিম-মুশফিক-লিটন-মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু হল না। ৬৪ রান করে থেমেছেন সাকিব আল হাসান।
২০১৯ বিশ্বকাপটা স্মরণীয় হয়ে রইল সুপারম্যান সাকিবের। রান করলেন মোট ৬০৬। উইকেট পেয়েছেন ১১টি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান তাঁর। ৬০৬ রান নিয়ে শীর্ষে আছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রোহিত শর্মার রান ৫৪৪।
বাংলাদেশ বললে সাকিব স্তুতি। এটাই ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের মূল বক্তব্য। অন্যদের কেউ কেউ কোনো কোনো দিন ভালো খেলবেন। আজও সেটাই হল। সাকিব ছাড়া অন্যরা নিভেই রইলেন। এমনকি মুশফিকও!
৩১৫ রানে শেষ হয়েছে পাকিস্তানের ইনিংস। সেমি ফাইনালে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ৭ রানের মধ্যে অল আউট করতে হবে। ওই রূপকথা ঘটাতে পারেননি সরফরাজরা!
কিছু করে দেখানোর পালা ছিল বাংলাদেশের। লর্ডসে খেলা। আগ্রহটা তাই তামিমকে নিয়ে ছিল। বিশ্বকাপে ব্যর্থই ছিলেন তামিম। লর্ডসও ফেরাল তাঁকে খালি হাতে। মাত্র ৮ রানে শাহিন আফ্রিদির বলে বোল্ড হন তিনি। উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ২২ বলে ২২ রান করার পর তিনিও আউট হয়ে যান। আমিরের বলে আউট হন তিনি।
ঠিক ১৮ তম ওভারে ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হন মুশফিক। তিনি করেন ১৯ বলে ১৬ রান। সাকিবকে নিয়ে মুশফিক জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন।
লিটন এসে সাকিবের সঙ্গে জুটির গড়ার চেষ্টা করছিলেন। থিতুও হয়েছিলেন। কিন্তু জমাতে পারলেন না। ৪০ বলে ৩২ রান করে শাহিন আফ্রিদির বলে আউট হয়ে যান তিনি।
মাহমুদুল্লাহ করেছেন ৪১ বলে ২৯ রান এবং মোসাদ্দেক করেছেন ২১ বলে ১৬ রান। যা দলের জন্য অপ্রতুল।
বাংলাদেশের যা সর্বনাশ করার তা শাহিন আফ্রিদিই করছেন। ৯ ওভার ১ বলে ৩৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
ভারত যেমন পথ হারিয়েছিল মুস্তাফিজে, ঠিক পাকিস্তানের একই অবস্থা হলো। ৫০ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ হলো ৯ উইকেটে ৩১৫ রান। মুস্তাফিজ পেলেন পাঁচ উইকেট। বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন মুস্তাফিজ।
রানটা ৩০০ এর ভেতরেই রাখা যেত। ইমাদ ওয়াসিম ২৬ বলে ৪৩ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন শেষ দিকে। মুস্তাফিজ ১০ ওভারে ৭৫ রান দেন। তবে ভালো বল করেন মিরাজও। ১০ ওভারে ৩০ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেট। সাইফউদ্দিন ৯ ওভারে ৭৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।
চার রানের জন্য বাবর আজম শতক না পেলেও ইমাম ঠিকই শতক পূরণ করে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন। ঠিক ১০০ বলে ১০০ করে হিট উইকেট হয়েছেন তিনি।
সুত্র : এনটিভি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button