
পতাকা ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন (২৪ ডিসেম্বর ১৯৩২-২০ ডিসেম্বর ২০১৩) এর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের স্ত্রী সৈয়দা জোহরার জন্ম ১৯৩২ সালের ২৪ ডিসেম্বর। আমৃত্যু তিনি তার স্বামীর আদর্শ ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে নিজ অন্তরের ভালোবাসা ও দেশপ্রেমকে সঙ্গী করে দেশ, দল ও জনগণের জন্য কাজ করে গেছেন।
সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সহধর্মিনী। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর স্ব পরিবারে ও জাতীয় ৪ নেতা হত্যার পরে নিভিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগকে প্রদীপ জ্বালাতে জ্বলে উঠেছিলেন তিনি।
তিনি ১৯৩২ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। অধ্যাপক বাবার সান্নিধ্যে কিশোরী বয়স থেকেই সমাজকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন।
১৯৫৮ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী হিসেব তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৯৫৯ সালে তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে বিয়ে হলে স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের সহযোদ্ধায় পরিণত হন। তাদের চার ছেলেমেয়ে রয়েছে, তারা হলেন শারমিন আহমদ রিতি (বড় মেয়ে) সিমিন হোসেন রিমি (মেজো মেয়ে), মাহজাবিন আহমদ মিমি (কনিষ্ঠা মেয়ে) ও তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ (কনিষ্ঠ পুত্র)
১৯৬৮ সালে গঠিত রাজবন্দি সাহায্য কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে তিনি একজন সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু এবং পরে একই বছরের ৩ নভেম্বর কারাগারের তার স্বামী তাজউদ্দীনসহ চার জাতীয় নেতা হত্যার পর বাংলাদেশে ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, তিনি আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। ১৯৭৭ সালে তিনি দলের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। সেই সময় সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ভূমিকা পালন করেন।
১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দলে আসলে, তাকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত করা হয়। সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯১ সালে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি মহিলা পরিষদ ও আফ্রো-এশীয় গণসংহতি পরিষদের সহ-সভানেত্রী ছিলেন।



